নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাজশাহীতে কৃষি সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার নগরের একটি রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এই কর্মশালা আয়োজন করে ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ (এফএফবি)।

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে কৃষি উদ্ভাবনকে কার্যকরভাবে ব্যবহারে প্রান্তিক কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সংবাদ লিখন ও প্রকাশে মিডিয়া কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

“কৃষি বিষয়ক সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন যেমন- কৃষিতে জীবপ্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাব সম্পর্কিত বিষয়ে ২৭ জন সাংবাদিক কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ম্যাগাজিনের সাংবাদিকবৃন্দ দক্ষতা বৃদ্ধির এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করেন।

আরও পড়ুন:নওগাঁয় কমলা চাষে আগ্রহী করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, একুশ শতকের কৃষি মানেই প্রযুক্তির ছোয়া। বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন ফসল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে এখন ফসল বোনা থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত -সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে সহজসাধ্য করে তুলেছে। বিজ্ঞানের সুনিপুণ কৌশলকে কাজে লাগিয়ে ফসলের বীজ ও উদ্ভিদেও অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত আছে। মুলত এই প্রক্রিয়াকেই আমরা জীবপ্রযুক্তি বলে থাকি । বৈজ্ঞানিক মহলে যা “বায়োটেকনোলজি” হিসেবেই অধিক পরিচিত। ভবিষ্যতের কৃষির উৎকর্ষতা এই জীবপ্রযুক্তি কে ঘিরেই আবর্তিত হবে।

বিজ্ঞানীদের মতে নিকট ভবিষ্যতে মানুষের চাহিদামতো নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার যোগান দিতে জৈবপ্রযুক্তির ব্যবহার হয়ে উঠবে অন্যতম উপায়। তবে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো নিয়ে সঠিক তথ্যের অভাবে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। কারণ এ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞানের অভাবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষও এই প্রযুক্তি নিয়ে বিভ্রান্ত হন।অথচ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে হরহামেশাই আমরা জীবপ্রযুক্তি উদ্ভাবিত খাবার গ্রহণ ও পণ্য ব্যবহার করছি।

আরও পড়ুন: দুমকিতে ফল-সবজি উৎপাদনের ওপর কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের কৃষকরা ইতোমধ্যে একটি জিন পরিবর্তিত ফসল, কীট প্রতিরোধী ‘বিটি বেগুন’ গ্রহণ করেছে । বিটি বেগুন চাষের ফলে কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রা প্রায় ৫১% কমেছে। ফলে বেগুন উৎপাদনের হার ও কৃষকদের আয় আগের তুলনায় প্রায় ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আরিফ হোসেন বলেন “কৃষি জীবপ্রযুক্তিকে সফলভাবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে এর গ্রহণযোগ্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ফলে প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষক ও গ্রাহকরা এর থেকে কীভাবে উপকৃত হতে পারে তা নির্ভর করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করার উপর ।”

আরিফ হোসেন আরও বলেন “আমরা চাই বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কৃষিক্ষেত্রের উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত পৃথিবী গড়তে সক্রিয় ভুমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুন: শিবগঞ্জে পাট চাষীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধন

কর্মশালায় রাজশাহীর বিশ্ববিদ্যালয়ের গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাতিল সিরাজ তার মূল প্রবন্ধে বলেন, বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। সামাজিক সচেতনতা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য সঠিক সংবাদ প্রকাশ আমাদের টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক সুফল বয়ে আনবে।

প্রসঙ্গত, ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ (এফএফবি) বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান যার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে জীবপ্রযুক্তিসহ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কর্নেল অ্যালায়েন্স ফর সাইন্স’ এর পৃষ্ঠপোষকতায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ।

এগ্রিকেয়ার  / এমবি