
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। চলতি ভরপুর সবজির মৌসুমেও দাম কমার নাম নেই বরং উল্টো চিত্র দেখা গেছে। প্রতিকেজি শিম ১২০ ও করলা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গতবছরের তুলনার প্রায় ৪ গুণ বেশি দাম সবজি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শুধু সবজির দামই বাড়েনি; বাজারে মুরগি, গরু ও খাশির মাংসের দাম বেড়েছে। গতবছরের তুলনায় প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির মাংসে ২০ টাকা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় ঠেকেছে। এছাড়া গরুর মাংসে ২০ টাকা বেড়ে ৬০০ এবং খাশির মাংসে ৫০ টাকা বেড়ে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে লাগাম টানা না হলে সবকিছুর উপরই প্রভাব পড়বে। তেল, পেঁয়াজ ,সবজি কোনকিছুরই দাম স্বাভাবিক নেই।
পড়তে পারেন: বেড়েছে সবজির দাম, কাঁচামরিচে স্বস্তি
শুক্রবার (১১ মার্চ ২২) রাজশাহীর সাহেব বাজার মাস্টারপাড়া, উপশহর নিউমার্কেট, লক্ষীপুর নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সবজির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে সাহেববাজার মাস্টারপাড়া সবজি ব্যবসায়ী হামিদ মিঞা জানান, এবার শীতকালীন সবজির দামও চড়া ছিল। এক সপ্তাহখানেক কম থাকলেও পরে থেকে চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। ফুলকপি গরম পড়লে কেউ খায় না, বিক্রি করতে পারি না। কিন্তু এবার ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাতাকপি গরুকে খাওয়ানো হতে; এবার ৩০ টাকার উপরে দাম। আমদানি আর চাহিদার কারণে কৃষকরা সবজির ভালো দাম পেয়েছে। আমরাও ব্যবসায় ভালো লাভ করেছি।
পড়তে পারেন: স্থিতিশীল সবজির বাজার, কমেছে পেঁয়াজের দাম
রাজশাহীর বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ , লাউ ৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা পিস, বেগুন ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মানভেদে করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা ও শসা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা, শিম ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। আর সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা, পাতিহাঁসের কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে হাঁসের কেজি ছিল ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩১৫ থেকে ৩২০ টাকা।
রাজশাহী নিউমার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার দোকানে মুরগি নেই। পিকনিকে রোস্ট করার জন্য ২০ কেজি সোনালী ২৬০ টাকা দরে বিক্রি করে দিয়েছি। সোনালি মুরগি বাসাবাড়ির পাশাপাশি হোটেলের জন্যও বিক্রি হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও সোনালি মুরগি ব্যবহার করা হয়। আর ব্রয়লার মুরগি সাধারণত বাসাবাড়িতে খাওয়ার জন্য কিনেন ক্রেতারা। এ কারণে অনুষ্ঠান বেশি হলে ব্রয়লার মুরগির তুলনায় সোনালি মুরগি বেশি বিক্রি হয়। এই কারণেই সোনালী মুরগির দাম বেড়েছে।
পড়তে পারেন: দেশে ঢুকছে ভারতীয় পেঁয়াজ, কমলো দেশীর বাজার
মাছের বাজারে ঘুরে দেখা যায়, বড় ইলিশ কেজিতে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, ছোট ইলিশ গত সপ্তাহের মতই ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১শত টাকা কম, রুই মাছ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৪০ টাকা কেজি, মিড়কা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, টেংরা মাছ কেজিতে ১শত টাকা বেড়ে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৮ টাকা এবং খোলা তেল ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সরিষার তেলের লিটারে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। গত ১০ থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে ৫ লিটারের রাইস ব্রান্ড তেলের দাম ৮২০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ৮৪০ টাকায় এবং ৫ লিটারের সান ফ্লাওয়ার তেল ১৫০০ টাকার পরিবর্তে হয়েছে ১৫২০ টাকা।
























