সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: করোনা মহামারিতে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ কম থাকলেও খাদ্যপণ্য উৎপাদনের জন্য কৃষি খাতে প্রণোদনা ঋণসহ স্বাভাবিক ঋণ বিতরণে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) কৃষি ও পল্লিঋণ খাতে ১৭ হাজার ৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংক।

বিতরণকৃত ঋণ মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬০ দশমিক ০৭ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেকে আবার চাকরি হারিয়ে গ্রামে নতুন করে কৃষি কাজ শুরু করেছেন। এতে বাড়ছে কৃষিঋণ বিতরণ।

চলতি অর্থবছের (২০২১-২২) ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে কৃষি ও পল্লি ঋণ খাতে ১৭ হাজার ৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) একই সময়ে কৃষি ও পল্লি ঋণ খাতে ১৪ হাজার ১৪৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বিতরণ করে ব্যাংকগুলো, যা ছিল ব্যাংক খাতের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৫৩ দশমিক ৮১ শতাংশ। হিসাব বলছে, চলতি বছরে আগের অর্থবছরের একই সময়ের (প্রথম সাত মাস) তুলনায় এবার ঋণ বিতরণ ২ হাজার ৯০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বেশি বিতরণ হয়েছে।

পড়তে পারেন: দুই মাসে দুই হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা কৃষিঋণ পেলেন কৃষকরা

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সাত মাসে সবচেয়ে ভালো করেছে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। প্রথম সাত মাসে চার হাজার ১০৯ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকটি; যা তাদের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ শতাংশ। পল্লিঋণ বিতরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। প্রথম সাত মাসে এক হাজার ৬১২ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এর পরের স্থানে রয়েছে বিশেষায়িত অপর ব্যাংক রাকাব বা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও তৃতীয় মাস থেকে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। কৃষি খাতে জানুয়ারি মাসে বিতরণ হয়েছে দুই হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। এর আগের মাস ডিসেম্বরে ঋণ বিতরণ হয় ৩ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা আর নভেম্বরে বিতরণ ২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা, অক্টোবরে ২ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা: সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে। এতে সামগ্রিকভাবে কৃষিঋণ বিতরণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেয়।

পড়তে পারেন: ২০৮ কোটি টাকার কৃষিযন্ত্র বিক্রি, ঋণ পাচ্ছে না কৃষকরা

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) কৃষিঋণ বিতরণ কমেছিল ২১ শতাংশ। অর্থবছরের আগস্টে ১ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা এবং জুলাইয়ে বিতরণ করা কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল ৯৪২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে অর্থবছের প্রথম সাত (জুলাই-জানুয়ারি) মাসে কৃষি ও পল্লিঋণ খাতে ১৭ হাজার ৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬০ দশমিক ০৭ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের রাষ্ট্রায়ত্ত ৮টি ব্যাংকে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম সাত মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ দশমিক ২৩ শতাংশ বিতরণ করতে পেরেছে ব্যাংকগুলো। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে বেসিক ব্যাংক ঋণ বিতরণের দিক থেকে পিছিয়ে আছে। এ ব্যাংকটি সাত মাসে মাত্র ১৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। আর বেসরকারি ৪১টি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে এসব ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৫৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

পড়তে পারেন: বিনা জামানতে ঋণ দিবে কৃষি ব্যাংক

অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে কৃষিঋণ বিতরণ কিছুটা বাড়লেও আদায়ের পরিমাণ কমেছে। এ সময়ে বিতরণের বিপরীতে কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের কৃষিঋণ আদায় বেশি ছিল। গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাস (জুলাই-জানুয়ারি) সময়ে কৃষিঋণ আদায় হয়েছিল ১৬ হাজার ৫৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আলোচিত সময়ে কৃষিঋণ বিতরণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর গত বছরের এপ্রিলে কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৯৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর কৃষি খাতের জন্য দ্বিতীয় মেয়াদের প্রণোদনার ঋণ চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পড়তে পারেন: সৌদি খেজুর, ভিয়েতনামী নারিকেল চাষে ৫০ লাখ টাকা ঋণ দেবে ব্যাংক

এবার কৃষি খাতের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের শস্য ও ফসল চাষের জন্য এককভাবে জামানত ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। ঋণের সুদের হার আগের মতো ৪ শতাংশই থাকছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের এ তহবিলের অর্থও বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করবে। তহবিলের মেয়াদ আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ