অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে কৃষিপণ্যের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া তাদের ভাষায় ইউক্রেইনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’ নামে; ওই লড়াইয়ের কারণে ইউক্রেইনের সমুদ্রবন্দরগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ফসল হয় সংগ্রহের বাইরে থেকে যায় না হয় ধ্বংস হয়ে যায়।

রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর দিন থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত ইউক্রেইন এক কোটি টন কৃষিপণ্য রপ্তানি করেছে; গত বছর একই সময়ে এই রপ্তানিপণ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় এক কোটি ৯৫ লাখ টন। গত ২২শে জুলাই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নিরাপদে শস্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়- যাতে জাতিসংঘ এবং তুরস্কও সই করে।

আরোও পড়ুন: সাড়ে ৬৬ হাজার টন গম-ভুট্টা রপ্তানি করবে ইউক্রেন

তবে চুক্তিটি সই হওয়ার পরদিনই ওডেসা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এরপর এ সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছিল। ইউক্রেনের সরকার বলছে, ওডেসা ও তার আশপাশের বন্দরগুলোয় আরো ১৬টি জাহাজ ৬০০,০০০ টন খাদ্য নিয়ে অপেক্ষা করছে।

কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওডেসা বন্দরের গুদামেই দুই কোটি টনের মত খাদ্যশস্য মজুদ রপ্তানির অপেক্ষায় পড়ে ছিল। এগুলো এখন আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যেসব দেশে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে সেখানে রপ্তানি করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাদ্যশস্য রপ্তানির দিক থেকে ইউক্রেন পৃথিবীর চতুর্থ স্থানে। পৃথিবীর সানফ্লাওয়ার তেলের ৪২%, ভুট্টার ১৬% এবং গমের ৯% উৎপাদিত হয় ইউক্রেনে। যে দেশগুলোতে ইউক্রেনের গম সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় তার মধ্যে প্রথম তিনটি হচ্ছে মিশর, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ। ২০২২ সালে ইউক্রেইনের ফসল উৎপাদনের পরিমাণ কমে ৫ কোটি টনের কাছাকাছি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, ২০২১ সালে এর পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৮ কোটি ৬০ লাখ টন।

পড়তে পারেন: গমের কেজিতে বাড়লো ৮ টাকা

ইউক্রেইনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত তারা ৩৮ লাখ টন ভুট্টা, ১৪ লাখ টন সূর্যমুখী বীজ, ১০ লাখ টন সূর্যমুখী তেল এবং প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টন গম রপ্তানি করতে পেরেছে।

এর বাইরে তারা যব, সয়াবিন তেল এবং পশুখাদ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত অনেক শস্যও রপ্তানি করে। দেশটি যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করে, তা দিয়ে ৪০ কোটি লোককে খাওয়ানো সম্ভব বলে ভাষ্য দেশটির সরকারের।জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় মস্কো-কিইভ চুক্তির আওতায় জুলাইয়ের শেষ দিকে কৃষ্ণসাগরীয় তিনটি বন্দর উন্মুক্ত হওয়ার পরও ইউক্রেইনের কৃষিপণ্য রপ্তানি সংঘাতের আগের তুলনায় অনেক কমই হচ্ছে। ইউক্রেইন প্রতি মাসে ৬০ লাখ টন পর্যন্ত খাদ্যশস্য রপ্তানি করতে পারে।

ড়তে পারেন: দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে গম-ভুট্টা উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ

গত সপ্তাহে ইউক্রেইনের কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২২-২৩ মৌসুম শুরুর পর ১৯ অগাস্ট পর্যন্ত তাদের শস্য রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ২৯ লাখ ৯০ হাজার টন হয়েছে।

রাশিয়ার আক্রমণের আগে বিপুল পরিমাণ শস্য রপ্তানি করতে পারায় ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২২ মৌসুমে ইউক্রেইনের রপ্তানি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৮৫ লাখ টনে দাঁড়িয়েছিল।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ