বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাজশাহীর বাঘায় আমবাগান ও ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খনন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ দিলেও প্রশাসন নীরবভূমিকা পালন করছে। কয়েক স্থানে পুকুর খনন করতে গিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির গোড়া থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে মূল লাইন ঝুঁকিতে পড়েছে।

জানা গেছে, বলিহার গ্রামে দুই ভাই সকাল সরকার ও স্বপন সরকার মিলে তাদের সাড়ে ৯ বিঘা জমির আমবাগান কেটে পুকুর খনন করছেন। তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমবাগানে ফলন ভালো হচ্ছে না। তাই বাগান কেটে পুকুর খনন করছেন।

পড়তে পারেন: নাটোরে অপরিকল্পিত পুকুর খননে জলাবদ্ধতা, বিপাকে কৃষক

মঙ্গলবার সরেজমিনে তেঁতুলিয়া গ্রামে প্রায় আড়াই বিঘা জমির ওপর ১০-১২ বছর আগে লাগানো আমবাগানের গাছ কাটতে দেখা গেছে। বাগানটি ওই গ্রামের জামাল সরকারের। তিনি চন্ডিপুরের কামাল হোসেন নামের বেপারির কাছে গাছগুলো বিক্রি করে দিয়েছে।

এছাড়া বাঘা পৌরসভার উত্তর মিলিকবাঘা, বলিহার, চাকিপাড়া, বাজুবাঘা ইউনিয়নের বার খাদিয়া, মনিগ্রাম ইউনিয়নের তুলসীপুর, পাকুড়িয়া, আড়ানী ও বাউসা ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে পুকুর খননের মহোৎসব চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূমি আইন অপেক্ষা করে খনন করা হচ্ছে পুকুর। ফলে কমে যাচ্ছে ফসলি জমির পরিমাণ।

পড়তে পারেন: গমের চারা কেটে বিক্রি করে বিঘায় পাচ্ছেন ১৮ হাজার

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোকাদ্দেস আলী বলেন, উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলছে পুকুর খনন। এই পুকুর খননের মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। এই মাটি পাকা রস্তায় পড়ে শুকিয়ে ধুলাতে পরিণত হচ্ছে। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, আগামী মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপনা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, খবর পেলেই পুকুর খননের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ