
জীবিকায় কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পল্লীর শিয়ালখেদা গ্রামের মানিক বর্মা জিরো থেকে হিরো বনে গেছেন। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে বিনা টাকায় প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন। পেয়েছেন পরিচিতি, হয়েছেন লাভবান।
জানা যায়, গত ২ বছরে প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। টবে ২৫০ গ্রাম কেঁচো সার থেকে গত ১৫ বছরে বেড়ে এখন নিজবাড়ী সংলগ্ন ৩৩ শতক জমিতে প্রতি মাসে ৫০ টন কেঁচো সার তৈরি করছেন। কেঁচো ও সার দুটোই বিক্রি করেন তিনি। কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকে বেকার যুবকের। জমির উর্বরতা রক্ষায় কেঁচো সার ব্যবহার কৃষকের ভরাসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন অনেকের কাছেই ‘কেঁচো মানিক’ বলে পরিচিত হয়ে উঠেছেন তিনি। এ সফলতার গল্প তুলে ধরেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।
সূত্র জানায়, দিনাজপুরে দুই শতাধিক উদ্যোক্তা কেঁচো চাষের যুক্ত রয়েছেন। গত অর্থবছরে জেলায় কেঁচো সারের উৎপাদন ছিল ২ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন।
নিজ বাড়ি-সংলগ্ন ৩৩ শতক জমিতে বড় টিনের ছাউনি। ছাউনির নিচে কেঁচো সার প্রস্তুত হচ্ছে। মেঝেতে বিছানো গোবর। আটজন শ্রমিক গোবর শুকাচ্ছেন। আবার কেউ শুকনা গোবর বস্তায় ভরে ওজন করছেন। ১০ কেজি থেকে ১ টন পর্যন্ত সার কিনছেন কৃষক। তার এই সার স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।
এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:
মাত্র দেড় বছরে কেঁচো সারে বাজিমাত সুলতানুজ্জামানের
কেঁচো সারের কেজি মাত্র ১০ টাকা, লাভবান বিলকিস আরা
কেঁচো চাষে ৭ লাখ টাকার কিস্তি চালান বিলকিস
রাজশাহীতে বাড়ছে কেঁচো সার উৎপাদন
কেঁচো প্রতি কেজি ২০০০ টাকা এবং সার প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। কেঁচো সার বিক্রি করেই পাকা বাড়ি ছাড়াও প্রতি মাসে খরচ বাদে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি। এখন তিনি শতাধিক গরুর খামার গড়তে চেষ্ঠা করছেন। তিনি এখন অনেক বেকার যুবকের কাছে অনুকরণীয় হয়েছেন।
মানিক বর্মা ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত ছিলেন। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। পরে বাসায় কয়েকটি টবে কেঁচো আর গোবরের মিশ্রণে সার তৈরি শুরু করেন। পরে বাড়ি সংলগ্ন ৩৩ শতক জমিতে গড়ে তোলেন ‘সবুজ স্বপ্ন অ্যাগ্রো ফার্ম’। আটজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন খামারে। প্রতি মাসে উৎপাদিত হয় প্রায় ৫০ টন কেঁচো সার।
মানিক বর্মা জানান, প্রতি টন সার প্রস্তুত করতে ১০ কেজি কেঁচো দরকার। ৩০ দিন পর থেকে পাওয়া যায় ৭৫০ কেজি সার। সাধারণত কেঁচো বাঁচে ৯৫ দিন। এ সময়ে দুবার গড়ে চারটি করে ডিম দেয়। ফলদ গাছ বা উঁচু জমির ফসলে পরপর তিনবার এ সার ব্যবহারে ডিম থেকে উৎপন্ন কেঁচো ওই স্থানে নিজে থেকেই সার উৎপাদন করতে থাকে। ফলে পরবর্তী দু-তিনটি ফসলে সার ব্যবহার না করলেও চলে। জমিতে কেঁচো সার ব্যবহারে বিঘা প্রতি কমপক্ষে ২০০০ টাকা সাশ্রয় হয়। এ সারে গাছের অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি খাদ্য উপাদানের ১০টিই বিদ্যমান।
কয়েকজন কৃষক জানায়, এ সার ব্যবহারের ফলে জমিতে রাসায়নিক সার কম ব্যবহার করতে হচ্ছে। মানিকের কাছে নিয়মিত সার কেনেন মুসলিম পাটোয়ারি। এ সার ব্যবহারে ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় কম হয়।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























