ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: গমের পাতা পোড়া (Leaf blight) বা ব্ল্যাক পয়েন্ট (Black point) রোগ মারাত্মক। মূলত ছত্রাকের কারণে এ রোগটি হয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে হালকা হলুদ হয়ে পাতা বিবর্ণ হতে থাকে। এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ পাতা পুড়ে যায়।

গাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দাগগুলো একত্রিত হতে থাকে এবং রোগটি নীচের পাতা থেকে উপরের পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে পাতা আগাম শুকিয়ে যায় যা দূর থেকে আগুনে পোড়া বা ঝলসানো বলে মনে হয়। -রোগের অনুকুল আবহাওয়ায় গমের শীষও আক্রান্ত হয় এবং বীজে রোগের সংক্রমণ ঘটে।

পড়তে পারেন: গমের ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

এ রোগের কারণ (Bipolaris sorokiniana), (Alternaria triticina), (Pseudomonas syringae) নামক ছত্রাক।

রোগের বিস্তার ও অনুকুল অবস্থা:
১) এরা বাীজবাহিত রোগ।
২) মৃত্তিকাস্থ শস্য অবশিষ্টাংশে এ জীবাণুগুলো অবস্থান করে।
৩) বায়ু, বৃষ্টির ঝাপটায় এ রোগ ছড়ায়।
৪) উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এ রোগ সৃষ্টিতে সহায়ক।
৫) বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির শেষে এ রোগের তীব্রতা বাড়ে।
৬) রোগ প্রতিরোধী জাত নেই তবে কাঞ্চন জাত কিছুটা রোগ প্রতিরোধী।

পড়তে পারেন: গমের গোড়া পঁচা রোগ ও তার প্রতিকার

রোগের লক্ষণ:
১) এ রোগের লক্ষণ পাতায় ও দানায় প্রকাশ পায়।
২) প্রথমে নিচের পাতার ছোট ডিম্বাকৃতি, ফ্লোরোসিস ক্ষত/দাগ পড়ে।
৩) পরে কয়েকটি দাগ একত্র হয়ে বড় হয় ও পাতা পোড়া ভাব ধারণ করে।
৪) গমের বীজে আক্রমণ হলে গম বিবর্ণ ও কুঞ্চিত হয়।
৫) বীজের ভ্রুণ গাঢ় বর্ণ ধারণ করে।
৬) গমের বীজের অংশবিশেষ কালো হয়ে যায় ও বীজের ভ্রুণ কাল হয়ে নষ্ট হয়ে যায়, বীজ গজায় না।
৭) গমের বীজের ভ্রুণ কালো হয়ে যায় বলে একে ব্ল্যাক পয়েন্ট বলে।
৮) গমের পাতায় এ রোগ হলে পাতা পোা বা leaf blight ও বীজে আক্রমণ হলে তাকে ব্ল্যাক পয়েন্ট বলে।

পড়তে পারেন: দেশে উৎপাদন হবে পাতা ঝলসানো ও মরিচা রোগপ্রতিরোধী বারি গম-৩৩

রোগের প্রতিকার:
১) রোগমুক্ত জমি হতে বীজ সংগ্রহ কতে হবে ও রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে।
২) পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ করতে হবে।
৩) ফসল পর্যায় অবলম্বন করতে হবে।
৪) জমি মাঝে মাঝে পরিদর্শন করতে হবে।
৫) গাছের পরিত্যাক্ত অংশ ও আগাছা ধ্বংস করতে হবে।
৬) প্রতি কেজি গম বীজে ৩ গ্রাম ভিটাভেক্স-২০০ মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
৭) টিল্ট ২৫০ ইসি ১ মিলিলিটার, প্রতি ২.৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ