
জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য কিনে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব ও কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রীর সঙ্গে সবজি বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এই কর্মসূচির আওতায় গতকাল মঙ্গলবার গোগ্রামে ৪২৭ জন, দেওপাড়া ৫৪৪ জনের মাঝে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, পটল ও আলু বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মাটিকাটা ইউনিয়নে এভাবে ত্রাণ পেয়েছেন ৬২০ জন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন বাজারে ভিড় কমিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের কথা ভেবে ত্রাণ সামগ্রীর পাশাপাশি সবজি কিনে বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রাজশাহীর সবজি আবাদের এলাকা হিসাবে পরিচিত গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষকরা করোনার প্রভাবে বেকায়দায় রয়েছেন। পাইকার না আসায় এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকায় পানির দামেও বিক্রি হচ্ছে না উৎপাদিত সবজি। আর সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মজুদও করতে পারছেন না চাষীরা।
স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য কিনে নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। এতে কৃষকরাও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। এই কর্মসূচীর মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ত্রাণের সাথে সবজি বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
আরোও পড়ুন:অসময়ে রাজশাহীর বাজারে লিচু প্রাপ্তিতে ক্রেতাদের কৌতুহল
এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। লকডাউনে সবজি বাজারে মন্দাভাবের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন সবজি কিনতে শুরু করায় বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে।
দেওপাড়া ইউনিয়নের কৃষক রতন জানান, বাজারে সবজির দাম নেই বললেই চলে।তবে গতকাল উপজেলা প্রশাসনের কাছে বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, লাউ,ঝিঙা বিক্রি করে কিছু টাকা পেয়েছি। মাটিকাটা ইউনিয়নের কৃষক তাশারুলের কাছ থেকে কেনা হয়েছে আলু, লাউ,পটল। তিনিও এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, এই উদ্যোগের ফলে চরম মন্দার বাজারে কৃষক দাম পাবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, কৃষকদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষকদের কাছে সরাসরি সবজি কিনে আবার সেই ইউনিয়নেই বিতরণ করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মতিয়র রহমান জানান, ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি আমরা সবজি বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে চাষিরা বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তাদের পণ্য বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে না। বাড়ি থেকেই আমরা তাদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করায় বাজারের চেয়ে ভালো দাম পাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে দুস্থরাও ত্রাণের চাল ও নগদ টাকার পাশাপাশি সবজি পাচ্ছেন। এতে তাদের আর বাজারে যেতে হচ্ছে না।সামজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি সকলকে ঘরে রাখাও আমাদের এই কার্যক্রমের লক্ষ্য।
























