
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: মানুষ সামাজিক জীব। একটা সমাজ রাষ্ট্রে মুসলিম অমুসলিম বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ থাকে। তারা আবাস গড়ে। ধনী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, মজুর, খেটে খাওয়া মানব নিয়ে দেশ গঠিত। মানুষ একে অপরকে ছাড়া চলতে পারে না।
কারও ওপর অন্যায়ভাবে জুলুম, অত্যাচার, মানবতা বিরুদ্ধ কর্মকান্ড করা যাবে না। টাকার প্রাচুর্যতায়, বংশের দাম্ভিকতায়, কটু কথায় ও ঘৃণার আস্ফালনে গরিবকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।
মানুষকে অত্যাচার করা অবৈধ। এমনকি কোনো জীবকেও। অত্যাচার অনাচার ইসলামে নিষিদ্ধ। অত্যাচারীকে আল্লাহ পছন্দ করে না। আল্লাহতায়ালা সবসময় মজলুমের পক্ষে থাকেন। তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াতে আল্লাহ মানবসমাজকে প্রত্যাদেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুুরুষ, নারীও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর! এখানকার অধিবাসীরা যে অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষাবলম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও’। (সুরা নিসা, আয়াত : ৭৫ )
আরও পড়ুনধ: ইসলামের দৃষ্টিতে চাষাবাদ
অত্যাচারী আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত। জান্নাত থেকে বিতাড়িত। জালিমের বিরুদ্ধে আল্লাহর অবস্থান কঠোর। তিনি জালিমকে অপছন্দ করেন। তিনি জালিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযান চালাতে ও তাদের মোকাবিলায় প্রস্তুতি থাকতে বলেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জালিম সম্প্রদায়ের মোকাবিলায় তোমাদের সাধ্যানুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ কর’। (সুরা আনফাল, আয়াত : ৬০)
জালিম আল্লাহর বিধান লঙ্ঘনকারী। আল্লাহর বিধানকে উপেক্ষা করে সে জীবন পরিচালিত করে। আল্লাহর কাছে তার জীবনের কোনো মূল্য নেই। তার ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত। আল্লাহ বলেন, ‘সাবধান! জালিমদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ’। (সুরা হুদ, আয়াত : ৮ )
মজলুম ও নির্যাতিতকে সাহায্য করা পুণ্যের কাজ। এতে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) খুশি হন। সাহায্যকারীর জন্য জান্নাতের ঘর তৈরি করেন। তার আপ্যায়ণে আল্লাহতায়ালা অপেক্ষা করেন। মজলুমকে সাহায্যের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমার ভাইকে সাহায্য কর। সে জালিম হোক অথবা মজলুম। আনাস (রা.) বলেন হে আল্লাহর রাসুল! মজলুমকে সাহায্য করব তা তো বুঝলাম কিন্তু জালিমকে কী করে সাহায্য করব? তিনি বললেন, তুমি তার হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে।’ (বুখারি, আয়াত : ২৪৪৪)
অন্য হাদিসে বিধৃত হয়েছে বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সা.) আমাকে সাতটি বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন যেগুলো হচ্ছে, ‘রোগীর শুশ্রুষা করা ও মজলুমকে সহায়তা দান করা’। ( সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫১৭৫ )
জুলুম অন্ধকার। পাপ পঙ্কিলতায় ভরপুর। জুলুম শয়তানের কাজ ও তার পছন্দ। জুলুম ব্যক্তির জন্য কিয়ামত দিবসে বিরুদ্ধ সাক্ষী হবে। জুলুম অত্যাচারীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘জুলুম কিয়ামতের দিন অনেক অন্ধকার রূপ নেবে’। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪৭)
আরও পড়ুন: ইসলামে গিরগিটি, রক্তচোষা ও কাঁকলাশ মারা জায়েজ কি?
মজলুম ব্যক্তির ফরিয়াদ আল্লাহর কাছে খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছায়। আল্লাহ তার ডাক শোনেন। তার দোয়া-মোনাজাত কবুল করেন। আল্লাহ মজলুমের অসহায়ত্ব মানুষকে অনুধাবন করতে বলেন। মজলুমের ‘আহ’ শব্দ আল্লাহর সহ্য হয় না। তিনি মজলুমের বন্ধু। তিনি মজলুমের অভিভাবক। তিনি মজলুমের ফরিয়াদ শুনেন। মুহাম্মদ (সা.) যখন মুআ’যকে ইয়ামানে পাঠান তাকে বলেন ‘মজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না’। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪৮)
নির্যাতিতের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে যা বলছে ইসলাম শিরোামে লেখাটির তথ্য দেশ রুপান্তর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
এগ্রিকেয়ার / এমবি
























