নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রমজান শুরুর আগেই রাজধানীর বাজারে ইফতারসামগ্রীর দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে লেবু, শসা ও খিরার দাম বেড়ে আকাশছোঁয়া হয়েছে।

পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যে ইতোমধ্যে রোজার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ফলে রমজানের আগেই বাড়তি খরচের চাপে পড়ছেন ক্রেতারা।

তবে চিনি, গুড় ও খেজুরের বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, বেশি প্রচলিত দুটি বাংলা খেজুরের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে বাকি বেশিরভাগ খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় মানভেদে ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত কম রয়েছে।

আজ সোমবার রাজধানীর বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরা বাজার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। কয়েক দিন আগেও যার দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। খুচরা বাজারে শসা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা দরে, যা আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এ ছাড়া খিরা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে লেবুর দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। বর্তমানে কারওয়ান বাজারে প্রতি হালি লেবু মানভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে একই লেবু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। অথচ কিছুদিন আগেও এসব লেবু ৪০ থেকে ৭০ টাকা দরে পাওয়া যেত।

খেজুরের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ব্যবসায়ীরা জানান, বস্তায় পাওয়া যায় এমন বাংলা খেজুর বর্তমানে প্রতি কেজি ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গতবার ছিল ১৩৫ টাকা। অপর বাংলা খেজুর, যা কার্টুনে পাওয়া যায়, প্রতি ১০ কেজি আগে ছিল ১ হাজার ৭০০ টাকা, বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা।

এ ছাড়া যেসব খেজুরের দাম কমেছে সেগুলো হলো—দাবাস খেজুর ৫৫০ টাকা, জাহিদি খেজুর ৩১০ টাকা, বড়ই খেজুর ৬০০ টাকা, মাশরুক খেজুর ৬০০ টাকা, আলজেরিয়ান খেজুর ৬০০ টাকা, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ৪০০ টাকা, আজুয়া (১) ১ হাজার ৩০০ টাকা, আম্বার খেজুর ১ হাজার ৮০০ টাকা, কালমি খেজুর ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম (১) ১ হাজার ২০০ টাকা, সাফাভি খেজুর ৮০০ টাকা, আজুয়া (২) ১ হাজার টাকা, মেডজুল খেজুর ১ হাজার ৪০০ টাকা, খুরমা খেজুর ৪০০ টাকা, দাবাস ক্রাউন ৭০০ টাকা, সুকারি খেজুর ৮০০ টাকা, মেডজুল জাম্বু খেজুর ১ হাজার ৮০০ টাকা, তিন ফল ১ হাজার ৬০০ টাকা, কিসমিস ৯০০ টাকা, কাজু বাদাম ১ হাজার ৫০০ টাকা, ভাজা কাজু বাদাম ১ হাজার ৬০০ টাকা, কাঠবাদাম ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং আখরোট ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে খুচরা বাজারে এসব খেজুর মানভেদে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

এ ছাড়া চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ টাকায়, আগে ছিল ৯৮ টাকা। ৭৫০ মিলিলিটার রুহ আফজা বিক্রি হচ্ছে ৫৪০ টাকায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ট্যাং বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। গুড় মানভেদে ১৪০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।