নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: আমের মৌসুম শেষে রাজশাহীতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আম। অবাক হওয়ার কিছুই নেই; বাজারে এখনও দেখা মিলছে আম। ঝিনু আশ্বিনা ও ব্যাগিংকরা আশ্বিনা আমের পাশাপাশি গৌড়মতি, বারি ৪ জাতের আম বিক্রি হচ্ছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর সাহেব বাজার স্বর্ণপট্টি, শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনাল, লক্ষীপুর সহ কয়েকটি স্থানে বিক্রি হচ্ছে আম।

নগরীর শিরোইল টার্মিনাল এলাকার রাজন ফল আড়তের রুবেল ইসলাম বলেন, বাজারে আমের পরিমাণ কমেছে। এখন আশি^না, বারি ৪, গৌড়মতি আম আছে। গতমাসের শেষের দিকেও ফজলি আম দু-একটা দেখা গেছে। তখন ৫০০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হয়েছে। এখন অন্যান্য যেসব আম রয়েছে সেগুলোর দাম কম।

পড়তে পারেন: মৌসুম শেষে ধরাছোঁয়ার বাইরে আম

আমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহীর সাহেব বাজারের স্বর্ণপট্টির জননী ফল আড়তের লাট্টু মিয়ার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, রাজশাহীর মানুষ এখন আর আম খাচ্ছে না। অনেক বেশি দাম হওয়ার কারণে আগ্রহ নেই। ১২ আনাই ক্রেতা নাই। যা বিক্রি হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল অঞ্চলে। সবচেয়ে বেশি কিনছে ঢাকার মানুষ। টাকা-পয়সাওয়ালা মানুষ ছাড়া এখনকার আম সাধারণ মানুষ খেতে পারেনা।

দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে ফজলি আম সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি করেছি। এখন বাজারে নাই। ঝিনু আশি^না আছে; বিক্রি করছি ১৯০ টাকা কেজি। আশি^নার পলিব্যাগ করা আমও ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে বারি-৪ জাতের আম আকার, ধরন ও স্বাদভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে। বাজারে এখনও আম্রপালির অস্তিত্ব মিললেও ব্যবসায়ীরা কেজি প্রতি এর দাম হাকছেন ২৫০ টাকা। তবে প্রথমদিকে গৌরমতি ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পড়তে পারেন: রাজশাহীর অর্থনীতি পাল্টে দেবে আমের ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট

রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকার লিটন ফল ভান্ডারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেষের দিকে আমের চড়া দাম হলেও আম বিক্রি নিয়ে একটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। তবে চাহিদানুসারে আম সরবরাহ করা হচ্ছে। রাজশাহীর বাইরের জেলা থেকে আম সংগ্রহ করে আনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহী জেলার মধ্যে মোহনপুর, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় সামান্য কিছু আশ্বিনা আম আনছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা থেকে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের দাম নওগাঁ জেলার চেয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বেশি। দামের এ তারতম্য হওয়ায় এই বাজারের চার ভাগের তিন ভাগ আম আনছেন নওগাঁর সাপাহার এলাকা থেকে।

প্রতি বছর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকায় বসে আমের দোকান। প্রথমদিকে এখানে প্রায় ২০ থেকে ২২ দোকান বসলেও এখন ৩ থেকে ৬ টি আমের দোকান।

পড়তে পারেন: মৌসুম শেষে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে আম

এই এলাকার আম ব্যবসায়ী মোমিন ইসলাম বলেন, শিরোইল বাস টার্মিনাল আম বাজারের অধিকাংশ ক্রেতাই স্থানীয়। স্থানীয় ক্রেতারা আম কেনেন এক কেজি। আর ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা অন্যান্য স্থানের বাইরের যাত্রীরা আম কেনেন বড়জোড় দুই থেকে তিন কেজি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ তথ্য কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল কাফি বলেন, আমের সরবরাহ যত কমবে ততই দাম বাড়বে। মৌসুম শেষে আমের দাম বাড়ে প্রতিবছরই । তবে এবার যে দামে আম বিক্রি হচ্ছে তা রেকর্ড বলা চলে।