
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর সেনানিবাসের ২০ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনাসদস্যরা সবজি উৎপাদনকারী প্রান্তিক কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের কাছে থেকে তারা সবজি কিনছেন এরপর তা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক অসচ্ছল পরিবারের মাঝে তা বিতরণ করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলার প্রতিটি উপজেলায় প্রতিদিন করোনা সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রান্তিক অসহায় রোজগারহীন পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে আসছে সেনাসদস্যরা।
এরই ধারবাহিকতায় এবার প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে নায্যমূল্যে শাকসবজি ক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছেন। সেনাবাহিনী প্রধানের অনুপ্রেরণায় যশোর সেনানিবাস হতে সব পদবির সেনা সদস্যেদের নিজস্ব রেশন থেকে বিগত এক মাস ধরে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ দিকে করোনার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক সবজিচাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি বাজারে নিয়ে যেতে না পারায় তাদের সবজির মূল্য একেবারে কমে যাওয়ায় চাষিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির মধ্যে পড়েন। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা ক্ষেত থেকে বর্তমান বাজারমূল্যে সবজি কিনে নিয়ে আসছেন। এর ফলে এলাকার বিপুলসংখ্যক চাষী উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি নগদ টাকা হাতে পেয়ে দারুণ খুশি।
আরোও পড়ুন: দুর্গাপুরে কাঁচা ধান কেটে পুকুর খননের প্রস্তুতি, জলাবদ্ধতার শঙ্কা
জেলার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের সবজি চাষি আলহাজ শুর আলী বলেন, আমাদের জমির অনেক সবজির ঠিকমতো মূল্য না পাওয়াতে জমিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এখন সেনাবাহিনী জমির সবজি ন্যায্যমূল্যে কিনে নেয়ায় আমরা উপযুক্ত দাম পেয়েছি। একই গ্রামের সবজিচাষি সাদেমুল বলেন, আমার কুমড়া বিক্রি করতে না পারায় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন সেনাবাহিনী নগদ অর্থে বাজারমূল্যে কুমড়া কিনে নেয়ায় আমি উপকৃত হয়েছি। সেনাবাহিনীর এ কার্যক্রম সব সময় চালু থাকলে কৃষকেরা দারুণভাবে উপকৃত হতে পারবে।
এ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত সেনাবাহিনীর সদস্য মেজর ওয়াহিদ জানান, করোনার কারণে বাজারে চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যে নিয়ে যেতে পারছেন না। তা ছাড়া বাজারে ক্রেতা কম থাকায় সবজির উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় অনেক জমিতে কৃষকের কষ্টের ফসল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগণের কাছ থেকে এই সবজি ক্রয় করে যশোর সেনানানিবাসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সবজি সেনাসদস্যদের জন্য সরবরাহ এবং বিভিন্ন স্থানে অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে চাষিরা প্রকৃত মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি তাদের সবজি নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী। সূত্র: নয়া দিগন্ত
























