নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: একদিনের ব্যবধানে পাইকারিতে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা কমেছে। সাথে কমেছে দেশী পেঁয়াজের দাম। চাষিরা বলছেন, আমদানির কারণে যতটুকু লাভ সম্ভব ছিল তা আর আর হবেনা।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দর দিয়ে মসলাপণ্যটির আমদানি বাড়ায় বাজার নিম্নমুখী হয়ে উঠেছে। শুধু আমদানি করা পেঁয়াজের নয়; দেশে উৎপাদিত দেশীয় পেঁয়াজের কেজিতেও কমেছে ৫ টাকা।

হিলি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , একদিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৮-২৯ টাকা বিক্রি হয়েছিল, যা গতকাল কেজিপ্রতি ২৫-২৬ টাকা দরে বিক্রি হয়। দেশী পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও ৫ টাকা কমে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পড়তে পারেন:বাড়ছে ভারতীয় পেঁয়াজ, আদা-রসুনের দাম

হিলি বন্দরের সাইফুল ইসলাম জানান , কিছু দিন আগে দেশীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল ফলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম কমতে শুরু করেছে। মোকামগুলোয় পর্যাপ্ত চাহিদা এবং দেশীয় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে এ দাম বাড়লেও তা আবার কমতে শুরু করেছে। কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা করে কমেছে। আমদানি করার কারনে দেশী পেঁয়াজের দাম কমেছে।

দুই মাস বন্ধের পর ৫ জুলাই থেকে হিলিসহ সবগুলো স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা। দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতির দিকে।

পাবনা ও মেহেরপুরসহ মোকামগুলোয় পেঁয়াজ সরবরাহ কম থাকায় দাম টনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় উঠেছিল। বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় তা কমে ১ হাজার ২০০ টাকায় নেমেছে।

পড়তে পারেন: একলাফে দ্বিগুণ কাঁচা মরিচ, কমেছে পেঁয়াজের দাম

রাজশাহী ও পাবনার কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পেঁয়াজের দাম ১৩”শ থেকে ১৬”শ টাকা দামে বিক্রি করে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হতে শুরু করেন ঠিক সেই সময় ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হয় দেশে। ধরা খেয়ে যান দেশের কৃষকরা। ফলে পরবর্তী বছরে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ কমতে থাকে চাষিদের।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। আগে প্রতিদিন বন্দর দিয়ে ১৫-২০ ট্রাক আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৫-৩০ ট্রাকে উন্নীত হয়েছে। গত সোমবার বন্দর দিয়ে একদিনেই ২৭টি ট্রাকে ৭৯৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

উল্লেখ্য, পেঁয়াজ উৎপাদনে বিশ্বে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। যা আগে ছিল দশম। দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে গত বছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। গত এক বছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন।

বারির মসলা গবেষণা কেন্দ্র এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ৪৭টি জাত উদ্ভাবন করেছে। যার মধ্যে পেঁয়াজের জাত ছয়টি। প্রতি বছর দেশে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। যা মোট মসলা আমদানির অর্ধেক।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ