রাঙামাটি প্রতিনিধি, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি। হৃদ-পাহাড়ের জেলায় বাড়ছে চোখ ওঠা (কনজাংটিভাইটিস) রোগের প্রকোপ। প্রায় ইউনিয়নে চোখ ওঠা রোগী দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ইতোমধ্যে হাজারো নারী-পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে চোখের ড্রপের জন্য ফার্মেসীতে ভীড় বাড়লেও চোখের ওষুধের সংকট নেই বলে জানিয়েছেন ওষুধের দোকানদারেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাঙামাটি শহরসহ উপজেলা গুলোতেও চোখ ওঠা রোগের প্রকোপ দেখা যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ফার্মেসীতে চাহিদা বাড়ছে চোখের ড্রপের। একই পরিবারে একের অধিক সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন। সংখ্যা দিনদিন বাড়তে থাকায় আক্রান্তরা চক্ষু বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তবে সংক্রমিতরা বেশিরভাগই বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চিকিৎসকেরা জানান, সাধারণত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া এবং কখনো অ্যালার্জির কারণেও চোখ ওঠা রোগ হয়। যে মৌসুমে বাতাসে আদ্রতা বেশি থাকে, সে সময় এ রোগটা বেশি হয়। রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত জিনিস কেউ ধরার পর হাত না ধুয়ে চোখে হাত দিলে এ রোগের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের অন্যান্য নিউজ পড়তে পারেন:

 বড় নয়, মাঝারি দেশাল গরুর দিকে যে কারণে ঝুঁকছে খামারিরা

আলোহীন চোখ নিয়ে গরুর খামারে লাখোপতি ফাহিম

গরুর নতুন খামারের জন্য বকনা ও গাভীর প্রাপ্তিস্থান-মূল্য

সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই এ রোগ ভালো হয়ে যায়। কোনো ক্ষেত্রে বেশি লাগতে পারবে। তবে সংক্রমিতদের রোদে কম যাওয়া, চোখে হাত না দেয়া, পুকুর বা নদী-নালায় গোসল না করা, চোখ পরিস্কার করতে নরম টিস্যু ব্যবহারসহ আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।

তথ্য মতে, এই রোগের ফলে অনেকের চোখের পাতা ফুলে লাল হয়ে যাচ্ছে। কারও চোখ থেকে পানি ঝরছে। চোখে জ্বালাপোড়া করছে, অনেকে অস্বস্তি ও যন্ত্রণায় অস্থির। প্রথমে এক চোখ আক্রান্ত হয়। পরে অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন পাঁচ-সাত জন চোখের ড্রপের জন্য আসছেন বলে জানান দোকানদাররা।

১০০ শস্যা বিশিষ্ট রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দৈনিক ২০ থেকে ৩০ জন এ রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। এক সপ্তাহে প্রায় ২০০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয় ক্লিনিক, প্রাইভেট চেম্বার ও পল্লী চিকিৎসকসহ ফার্মেসি থেকে সাধারণ ড্রপ দিয়েই চিকিৎসা নেওয়ায় জেলায় কতজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আক্রান্তদের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের অন্যান্য নিউজ পড়তে পারেন:

রাজশাহীতে ভয়ংকর এলএসডি আক্রান্ত গরুর সংখ্যা বাড়ছে

গরুর প্রাণঘাতী ব্যাবেসিওসিস রোগ সম্পর্কে জানেন কি?

গরুর তড়কা রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি

শহিদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, কয়েকদিন ধরে চোখে আলো পড়লে অস্বস্তি লাগে, চোখ খুলতে সমস্যা হচ্ছে। এখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের ড্রপ ব্যবহার করছি।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানে অনেকে আক্রান্ত হয়েছে। আমরাও তেমন ক্লাসে যায়নি। তারা চোখের ড্রপ ব্যবহার করার ফলে দ্রুত সুস্থ হয়ে গেছেন।

রাঙামাটি শহরের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বলেন, আমি আক্রান্ত হলে কয়েকদিন দোকান বন্ধ রাখি। পরে সুস্থ হলে দোকান খোলা রাখা হয়।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ড. শওকত আকবর খান বলেন, চোখ ওঠা রোগটি সারা দেশে দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে দৈনিক সব বয়সের ২০-৩০ জন চোখ ওঠা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভয় না পেয়ে এ রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়।

এ বিষয়ে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের চক্ষুবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ জয়নাল আবেদিন জানান, চোখ ওঠা রোগটি ভাইরাসের কারণে হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। এটি পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে চলে যায়। তবে এটা ছোঁয়াচে হওয়ায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের উচিত ভীড় এড়িয়ে চলা। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলে কালো চশমা ব্যবহার করা।

তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ‘মক্সিফ্লক্সাসিন’ ব্যবহার করতে পারেন।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ