মঙ্গলবার, ২৬শে মে ২০২৬, ১২ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ৮ই জিলহজ ১৪৪৭

কচি ধানের কুশি রক্ষায় আগাম সতর্কবার্তা ব্রি’র

প্রচ্ছদ, বিভাগ: agrinews, চাষ ব্যবস্থাপনা ও করণীয়, ফসল, প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২২, সোমবার  

ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: কচি ধানের কুশি রক্ষায় অর্থ্যাৎ ধানের ব্লাস্ট রোগের আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)।

সংস্থাটির এক বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়, বর্তমানে সারাদেশে যে আবহাওয়া বিরাজ করছে তাতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গাজীপুর, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা অঞ্চলে আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বোরো ধানের আগাম কুশি থেকে মধ্য কুশি পর্যায়ে সংবেদনশীল জাতসমূহে এ রোগ বেশি ছড়াতে পারে। ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, ব্রি-৬৩, ব্রি-৮১, ব্রি-৮৯, ব্রি-৯২ জাতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিতে পারে বেশি।

পড়তে পারেন: বৃষ্টি ও শীত নিয়ে নতুন তথ্য দিল আবহাওয়া অফিস

সংস্থাটি বলছে, রোগ দেখা দিলে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৮ গ্রাম ট্রাইসাইক্লাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক অথবা প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৬ গ্রাম নাটিভো ভালোভাবে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে ৭ দিন ব্যবধানে ২ বার স্প্রে করতে হবে। চারার পাতার উপরের শিশির শুকানোর পর যেকোনো সময় স্প্রে করা যেতে পারে।

তাছাড়া ঠান্ডার কারণে গাছ হলুদ হতে পারে । সেক্ষেত্রে বিঘা প্রতি (৩৩ শতাংশ) ৩.৫ কেজি জিপসাম সার জমিতে প্রয়োগ করে সুন্দরভাবে জমি মালচিং করে (হাতিয়ে) দিতে হবে ।

ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতাপোড়া, লালচে রেখা রোগের লক্ষণ, করণীয়

ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতাপোড়া ও ব্যাকটেরিয়া জনিত লালচে রেখা আমন মওসুমে ধানের অন্যতম প্রধান দুটি রোগ। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এ রোগগুলো ধানের ফলনের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।

ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতাপোড়া রোগ: রোগের শুরুতে পাতার অগ্রভাগ বা কিনারায় পানি চোষা শুকনা দাগ দেখা যায়। দাগগুলো আস্তে আস্তে হালকা হলুদ রং ধারণ করে পাতার অগ্রভাগ থেকে নিচের দিকে বাড়তে থাকে। শেষের দিকে আংশিক বা সম্পূর্ণ পাতা ঝলসে যায় এবং ধুসর বা শুকনো খড়ের মত রং ধারণ করে।

পড়তে পারেন: আতব ধানের শীষ মরা রোগে দিশেহারা কৃষক

ব্যাকটেরিয়া জনিত লালচে রেখা রোগ: এ রোগের লক্ষণ পাতার শিরা বরাবর লম্বালম্বিভাবে লালচে রেখা দেখা যায়। রেখাগুলো প্রথমে হালকা হলুদ রঙের এবং ভেজা মনে হয়। সূর্যের দিকে ধরলে দাগগুলোর ভিতর দিয়ে আলো দেখা যায়। বেশি পরিমাণ ইউরিয়া সারের ব্যবহার, উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা রোগগুলির জন্য অনুকূল। ঝড় ও বৃষ্টির পরে মাঠে রোগ দুটির বিস্তার দ্রুত হয়। অতি উর্বর, জলাবদ্ধ এবং ছায়াযুক্ত জমিতে রোগগুলি বেশি হয়।

রোগ দুটি দমনে করণীয়: ঝড়-বৃষ্টি এবং রোগ দেখার পরপরই ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় ৬০ গ্রাম এমওপি, ৬০ গ্রাম থিওভিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। থোড় বের হওয়ার আগে রোগ দেখা দিলে বিঘা প্রতি ৫ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ভেজা ও শুকনা পদ্ধতিতে (অডউ) সেচ ব্যবস্থাপনা অনুসরন করতে হবে।

এ বিষয়ে আরো তথ্য জানতে স্থানীয় কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন। সূত্র: উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর-১৭০১

এ্রগ্রিকেয়ার/এমএইচ