নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত উত্তরের জনপদ নওগাঁ। আমের নতুন রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। তবে শস্য চাষেও আগ্রহী জেলার চাষিরা। পোল্ট্রিপণ্য ও মানুষের খাবার হিসেবে ভুট্টার ভালো দোমের আশায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন বরেন্দ্রের চাষিরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, জেলায় চলতি রবি মৌসুমে ৬ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই কৃষকরা তাদের জমিতে ভুট্টা রোপণ শুরু করেছেন। চলতি বছর ভুট্টা চাষের ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৫শ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষির মধ্যে সরকারী প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।

ভুট্টা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে যথারীতি জেলার ৪ হাজার ৫০০ জন প্রান্তি ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে সরকারী প্রণোদনার অংশ হিসেবে বীজ, এমওপি এবং ডিএপি সার প্রদান করা হচ্ছে।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

ভুট্টায় ছেয়ে গেছে বালুময় চর

ভুট্টার উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা ফ্রান্সের

ভুট্টার বিধ্বংসী ফল আর্মিওয়ার্ম দমন ব্যবস্থাপনা

বাদাম ভুট্টা ধান চাষে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন আকলিমা

কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেক কৃষককে এক বিঘা জমির বিপরীতে ২ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে এমওপি সার এবং ২০ কেজি কের ডিএপি সার প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হচ্ছে।

কৃষকরা বলছেন, আগামী সময়ে দেশে সবকিছুর দাম বাড়তে পারে। তাই তারা ভুট্টা-গম জাতীয় ফসলে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সাধারণত কৃষকরা বেশি দাম পাওয়া শস্য চাষে ঝুঁকে পড়েন।

জেলার মান্দা উপজেলার কৃষক জালাল উদ্দিন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগানো হয়েছে। আগাম ভুট্টা চাষে লাভ হয় বেশি। ১২’শ থেকে দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি করার আশা আছে।

সরকারী হিসেবে প্রতি কেজি বীজের মূল্য ৪০০ টাকা, প্রতি কেজি এমওপি ১৩ টাকা এবং প্রতি কেজি ডিএপি ১৪ টাকা। সেই হিসেবে প্রণোদনা দেয়া বীজ ও সারের মোট মূল্য ৫৪ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁ’র উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানিয়েছেন, ধার্যকৃত জমিতে এ বছর ৮৫ হাজার ২১ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উপজেলা ভিত্তিক ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে নওগাঁ সদর উপজেলায় ২২০ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ৪৬০ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ৪ হাজার ৭২৫ হেক্টর, বদলগাছি উপজেলায় ১২৫ হেক্টর, মহাদেবপুর উপজেলায় ২৯০ হেক্টর, পতœীতলা উপজেলায় ৯০ হেক্টর, ধামইরহাট উপজেলায় ৪১০ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৩০ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ৩০ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় ৩৬০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ