নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাব পড়েছে। বৃষ্টি ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে ক্ষতি হয়েছে বেশ কয়েকটি ফসলের। তবে, আপাতত সু-খবর জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গতকাল শুক্রবারের (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার পূর্বাভাসে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো: শাহীনুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আপাতত বৃষ্টি কিংবা শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস নেই। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ৫ দিন পর থেকে বাড়বে। দিনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি হচ্ছে।

এছাড়া অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানতঃ শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারী ধরেেনর কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা (২-৩) ডিগ্রী সে. .হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পড়তে পারেন: লালপুরে বাণিজ্যিকভাবে বেদেনার চাষ শুরু

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীতাকুন্ড। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা টেকনাফ ৩০ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও সর্বোনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার বাইরে দেশের কোথাও ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়নি।

সিনটপিক অবস্থায় আবহাওয়া অফিস জানায়,পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদ-দেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

পড়তে পারেন: বিকেল থেকে বৃষ্টি বিদায়, রাতেই নতুন পরিস্থিতিতে পড়বে দেশ

আবহাওয়া অফিস  আরও জানায়, ঢাকায় বাতাসের গতি দক্ষিণ-পূর্ব/দক্ষিণ দিক থেকে ঘন্টায় (০৬-১২) কিঃ মিঃ । আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৬৮ শতাংশ। আগামীকাল ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটে আর আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে।

উল্লেখ্য রাজশাহীতে দুই দিন দেখা মেলেনি সূর্যের। গত বুধবার দিবাগত রাত ও বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত রাজশাহী নগরীতে বৃষ্টি হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কিছুটা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ঝরে নগরজুড়ে। তবে শীতের তীব্রতা তেমন ছিল না।সেদিন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ঝরায় বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে নগরজুড়ে দেখা মেলে ঘন কুয়াশার। এতে জনজীবন অনেকটেই থমকে যায়। করোনাকালীন দোকানপাট রাত ৮টা পর্যন্ত খোলার সময়সীমা থাকলেও প্রচণ্ড কুয়াশায় আগেই রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়।

পড়তে পারেন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে লাল জাতের আখ চাষে বাবুর বাজিমাত

এদিকে আবাহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রহিদুল ইসলাম বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ায় মেঘের উপস্থিতি বেড়েছে। সঙ্গে রয়েছে ঘন কুয়াশা। ফলে সূর্যের দেখা মিলছে না। মূলত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ে এবং আকাশ থেকে ঘন কুয়াশা নামে। তবে শুক্রবার সকাল ১০টার পর থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করবে বলেও জানান এই আবহাওয়া পর্যবেক্ষক।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ