ইউক্রেনে গমের রফতানি মূল্য

আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করতে এগিয়ে আসার উচ্চাভিলাষী ঘোষণা দিয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘোষণা দিয়েই বিপাকে পড়েছে ভারত। রফতানি দুরের কথা মাত্র চার মাসের মধ্যেই গম আমদানির বিষয়ে ভাবছে ভারত। এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে গম আমদানির তথ্য উঠে আসার পর নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে সরকারি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটানোর জন্য ভারতের পর্যাপ্ত গমের মজুদ রয়েছে। আপাতত আমদানি করতে হচ্ছে না।

বৈশ্বিক খাদ্য সংকটে ত্রাতার ভূমিকায় নামার ঘোষণার আগেই চলতি বছরের মার্চে ভারতে রেকর্ড পর্যায়ে তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। এতে গম উৎপাদন ব্যাহত হয়। বাড়তে থাকে দেশীয় গমের মূল্য। এর প্রভাব পড়ে ভারতীয় সাধারণ পরিবারের ওপর, যাদের প্রধান খাদ্য গম থেকে প্রস্তুতকৃত নান ও চাপাতি।

পড়তে পারেন: সাড়ে ৬৬ হাজার টন গম-ভুট্টা রপ্তানি করবে ইউক্রেন

আশানুরূপ বাম্পার ফলন না হওয়ায় এ বছর মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শস্যপণ্যটি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত সরকার। একই সঙ্গে আগস্টে গমের মজুদ ১৪ মাসের সর্বনিম্নে পৌঁছে। এ সংকটে নতুন করে ইন্ধন জুগিয়েছে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির হার। মজুদ সংকট ও দামের ঊর্ধ্বমুখিতায় গম রফতানির পরিবর্তে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।

গমের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কর্তনের বিষয়েও ভাবছে সরকারি কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অসম্মতি জানিয়েছে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়।

চলতি বছরের মার্চে শিকাগোয় এক বুশেল গমের দাম প্রায় ১৪ ডলারে পৌঁছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জের ধরে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্য রফতানিতে হুমকি সৃষ্টি হয়। এ ধারাবাহিকতায় বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। বর্তমানে বুশেলপ্রতি গমের দাম কমে ৮ ডলারে নেমে এসেছে।

পড়তে পারেন: গম কিনতে ৫৩০ কোটি ইউয়ান ঋণ দিচ্ছে চীনা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদক দেশ ভারত। তবে বিপুল পরিমাণ গম উৎপাদন সত্ত্বেও শস্যপণ্যটি কখনো রফতানি করেনি দেশটি। দেশীয় চাহিদা মেটাতেই ব্যয় হয় উৎপাদিত ফসল। একই সঙ্গে খুব বেশি আমদানিও করতে হয় না ভারতকে। বার্ষিক উৎপাদনের মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ গম আমদানি করে দেশটি। সে দিক থেকে বলা যায়, ভারত অনেকটাই স্বনির্ভর।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে গম চাষ প্রায় ১০ কোটি ৭০ লাখ টনে পৌঁছবে। ফেব্রয়ারির পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল উৎপাদন হবে ১১ কোটি ১০ লাখ টন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও মিলারদের পূর্বাভাস অনুসারে, এ অর্থবছরে গম চাষ হবে ৯ কোটি ৮০ লাখ থেকে ১০ কোটি ২০ লাখ টন।

পড়তে পারেন: গম ও ভুট্টা নিয়ে ইউক্রেন ছাড়লো আরও ২ জাহাজ

এদিকে ভারতে ভোক্তা গমের মূল্যস্ফীতির হার এপ্রিলে ৯ শতাংশের বেশি ছিল। গত মাসে তা আরো বেড়ে ১১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছয়। একই সঙ্গে শস্যপণ্যটির পাইকারি মূল্য ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ হার নতুন সংশয় তৈরি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য। সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৭ শতাংশ রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ