ডেইরি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বর্তমানে খালেদা খাতুনের বছরে আয় হচ্ছে ২ লাখেরও বেশি। খামারে বেশি গরু নেই, মাত্র ৪টি গাভী। এই চার অস্ট্রেলিয়ান গাভী থেকে আয় হচ্ছে এ টাকা। আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাচ্চা দিবে সবগুলো গাভী। ফলে বছরে আয় বেড়ে দাঁড়াবে ৬ লাখ টাকা।

চুয়াডাঙ্গায় গাভী পালনে স্বাবলম্বী হয়েছেন খালেদা খাতুন। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। নিজ উদ্যোগেই গাভী পালন করে এখন তিনি স্বাবলম্বী।

বর্তমানে তার খামারে মোট চারটি গাভী রয়েছে। তার মধ্যে তিনটা গাভীর পেটে বাচ্চা। আর কয়েক মাস পার হলেই তার খামারে আরও তিনটা গাভী যোগ হবে। আর বর্তমানে একটা গাভী দুধ দিচ্ছে।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ১২ জুন আসাদুজ্জামান আসাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা। বর্তমানে খালেদা খাতুন-আসাদুজ্জামানের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে। বড় ছেলে খালেদুজ্জামান চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে এবং ছোট ছেলে অরুনুজ্জামান গোকুলখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। সংসার সামলে নিজে কিছু করার ইচ্ছা ছিল খালেদা খাতুনের। তাকে সহযোগিতার হাত বাড়ান স্বামী।

স্বামীকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ভুট্টা বিক্রির ৬৪ হাজার টাকা নিয়ে ২০১৫ সালে বাছুরসহ উন্নত জাতের একটি অস্ট্রেলিয়ান গাভী কিনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি খালেদার। এই পাঁচ বছরে সাত লাখ টাকার দুধ বিক্রি করেছেন বলে তিনি জানান। আগে গাভীগুলো তিনি নিজেই দেখাশোনা করতেন।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

কোরবানির উদ্দেশ্যে গরু পালনে যেসব কৌশল জানলে লাভ নিশ্চিত

দেশী গাভীকে কোন জাতের বীজ ব্যবহার লাভজনক!

চাকরি ছেড়ে গরুর খামারি, মাসিক আয় দেড় লাখ টাকা

গরু মোটাতাজাকরণ ও ছাগল, ভেড়া, গাভী পালনে মিলবে কৃষি ঋণ

তার এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে পরিবারের সকলেই এখন গাভীগুলোকে পরিচর্যা করেন। গাভীর খাবারের জন্য একবিঘা জমিতে আবাদ করেন ঘাস। ঘাস কাটার যন্ত্র ও গাভীদের থাকার পরিবেশ সবই আধুনিক মানের। অর্গানিক পদ্ধতিতে গাভীগুলোর লালন-পালন করা হয়।

নিজেদের কন্যা সন্তান না থাকায় গাভীগুলোকে কন্যা সন্তারের মতোই লালন-পালন করে আসছেন তিনি। খালেদা খাতুনের ইচ্ছা, একদিন তার অনেক বড় খামার হবে। সেখানে কাজ করে অনেক বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

খালেদা খাতুন বলেন, গাভী পালনের পাশাপাশি একটি ছাগলের খামার করার ইচ্ছা আছে আমার। আর সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পেলে জেলার আধুনিক মানের একটি খামার করা ইচ্ছাও আছে আমার।

জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা জানান, খালেদা খাতুন একজন সাহসী ও সফল খামারি। তার এই সফলতা দেখে ঐ এলাকার আরো অনেক গৃহিণী গরু পালনে এগিয়ে আসবেন আশা করছি। কেউ খামার করতে চাইলে তাদের সব রকমের সহযোগিতা করা হবে। গাভী পালনে গৃহিনীর বছরে আয় হবে ৬ লাখ! সংবাদের তথ্য ঢাকা টাইমস থেকে নেওয়া হয়েছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ