মারা যাওয়া মাছ অল্পদামে কিনে খুশি এক ক্রেতা।

মেহেদী হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: দুইদিনের ব্যবধানে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার কয়েক’শ পুকুরে ১৪ কোটি টাকার বেশি মাছ মারা গেছে। মারা যাওয়া মাছের বেশিরভাগই ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের রুই, কাতল, সিলভারকার্পসহ কার্প জাতীয় মাছ। এতে বড় ধরণের ক্ষতিতে পড়েছেন এ জেলার মাছ চাষিরা।

রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি এগ্রিকেয়ার২৪.কম কে জানান, জেলার বাগমারা, পবা, মোহনপুর, তানোরসহ কয়েকটি উপজেলার প্রায় ৫০০ পুকুরের আনুমানিক ৭০০ মেট্রিকটন মাছ মারা গেছে।  প্রতিকেজি মাছের দাম গড়ে ২০০ টাকা হলে মাছ চাষিদের প্রায় ১৪ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

রাজশাহীর বাগমারা, পবা, মোহনপুর, তানোরসহ কয়েকটি উপজেলার কয়েক’শ পুকুরের প্রায় ১৪ কোটি টাকার মাছ মারা গেছে। এসব উপজেলার প্রায় ৫০০ টি পুকুরের আনুমানিক ৭০০ মেট্রিকটন মাছ মারা গেছে। মারা যাওয়া মাছের বেশিরভাগই ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের রুই, কাতল, সিলভারকার্পসহ কার্প জাতীয় মাছ। প্রতিকেজি মাছের দাম গড়ে ২০০ টাকা হলে মাছ চাষিদের প্রায় ১৪ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলোক কুমার সাহা।

আবহাওয়ার পরিবর্তনে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে জেলার বিভিন্ন পুকুরের মাছ ভেসে উঠতে থাকে। সেইসাথে অসংখ্য পুকুরের মাছে মারা যায়। এসব মাছের কিছু অংশ রাজশাহীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ছাড়াও ঢাকায় কম দামে বিক্রির উদ্যেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জেলার পবা উপজেলায় ক্ষতি হয়েছে সর্বোচ্চ। উপজেলার ৪০০ টি পুকুরের রুই, কাতল, সিলভার কার্প, তেলাপিয়াসহ কার্প জাতীয় মাছ মারা গেছে। পুকুরে মাছের ঘনত্ব বেশি হওয়া, ছোট পুকুরে বেশি মাছ মজুদ করে রাখা, পানি পরিবর্তনের ব্যবস্থা না থাকা, অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে মাছ মারা গেছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বাগমারা, পবা, মোহনপুর, তানোর উপজেলা ছাড়াও নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কিছু অংশে মাছ মারা গেছে।কিছু কিছু পুকুরের মাছে ভেসে উঠা ছাড়াই মারা যায়। কয়েকদি ধরে আবহাওয়ার টানা উঠানামার কারণে পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছে। যেসব পুকুরে মাছের ঘনত্ব বেশি, আয়তন কম, অপেক্ষাকৃত আলো বাতাস কম পড়ে সেসব পুকুরে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হ্যাচারি মালিকরাও। তবে, পানি ফোয়ারা, অক্সিজেন ট্যাবলেট, পানি পরিবর্তনের মাধ্যেমে অনেককানি ক্ষতি কমিয়ে এনেছেন হ্যাচারি মালিকরা।

রাজশাহীর পবা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর এগ্রিকেয়ার২৪.কম কে জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার বিকেল পর্যন্ত উপজেলা প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টি পুকুরের মাছ মারা গেছে। রুই, কাতল, সিলভারকার্পসহ কার্প জাতীয় মাছ মারা গেছে। এসব মাছ ওজনে ৩,৫, ৭ কেজি পর্যন্ত হয়েছিল। মারা যাওয়া মাছ কেনার কেউ না থাকায় প্রতি পিস মাছ ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা করে বিক্রি করেছে। আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ মেট্রিকটন মাছের ক্ষতি হযেছে। প্রতিকেজি মাছ ২০০ টাকা কেজি হলেও শতশত কোটি ক্ষতি হয়েছে।

মাছ মারা যাওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে এই কর্মকর্তা জানান, কয়েকদিনের আবহাওয়া ও তাপমাত্রা উঠানামার কারণে পুকুরে অক্সিজেনের ঘাটতি হওয়ায় এমনটি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অক্সিজেন ট্যাবলেট, পানি পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

এদিকে তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহাবুল ইসলাম এগ্রিকেয়ার২৪ কম কে জানান, পুকুরের মাছ মারা যাওয়া বিষয়টি জানতে পেরেছি। ১৫-২০ জন চাষি পরামর্শ নিতে এসেছিলেন। তাদের প্রত্যেকের ক্ষতি প্রায় ১৫-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়েছে। উপজেলার সম্পূর্ণ ক্ষতির পরিমান এখোনো জানতে পারিনি। এসব পুকুরের পানি পরিক্ষা করা হয়েছে। পানিতে কোন বিষাক্ত কিছু পাওয়া যায়নি। এটি অক্সিজেনের এবং আবহাওয়ার হটাৎ পরিবর্তনের কারনেই হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

বাগমারা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন এগ্রিকয়োর২৪.কমকে জানান, বছরে ২-৩ বার এই ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। বরেন্দ্র অঞ্চলে তাপমাত্রার উঠানামার কারণে এমন হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত উপজেলার ক্ষতির বিষয়ে জানা যায়নি। তবে, খুব বেশি ক্ষতি হবে না বলেও মনে করেন তিনি।

হটাৎ মাছ মারা যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন । এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। কয়েক উপজেলার প্রায় ৫০০- ৬০০ টি পুকুরের আনুমানিক ৬৫০ থেকে ৭০০ মেট্রিকটন মাছ মারা গেছে। প্রতিকেজি মাছ ২০০ টাকার কম হবে না। হিসেব করলে কয়েক কোটি টাকার মাছ ক্ষতি হয়েছে।

মাছ মারা যাওয়ার কারণ হিসেবে এই কর্মকতা বলেন, চাষিরা অল্প জায়গায় বেশি মাছ চাষ করে। দেখা যায় একটি পুকুরে ১০ টি মাছের অক্সিজেন ব্যবস্থা আছে। কিন্ত চাষিরা ১০০ টি মাছ ছাড়েন। এছাড়াও আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং মাছের ঘনত্ব, বিচরণের জায়গা অপ্রতুলতা, অক্সিজেন সরবরাহ কম হওয়ার জন্য মাছ মারা যেতে পারে। এসিড বৃষ্টিতে মাছ মারা যাওয়ার বিষয় নাকচ করে দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, এসব বিষয়ে এখোনো কোন জোরালো তথ্য পাইনি।

রাজশাহীতে দু-দিনে ১৪ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হওয়ায় করোনা পরিস্থিতেতে দিশেহারা হয়ে উঠেছে জেলার মাছ চাষিরা। ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিদের কোন সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবেনা বলেও এক ধরণের তথ্য পাওয়া গেছে।