
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ২০১৯-২০ মৌসুমের শেষদিকে ভারতের চিনি রপ্তানি বেড়েছে। ওই অর্থবছরের শেষ দিকে অর্থাৎ মহামারি করোনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ৫৭ লাখ টন চিনি রপ্তানি করেছে দেশটি।
বাড়তি চাহিদার কারণে এমন রপ্তানি বেড়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিজনেস লাইন।
৫৭ লাখ টন চিনি রপ্তানি বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুবোধ কুমার সিংহ জানান, চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে ৬০ লাখ টন চিনি রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এখন অবধি ৫৭ লাখ টন চিনি রপ্তানি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ লাখ টনের মতো চিনি রপ্তানি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে মিলগুলো থেকে পাঠানো হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আমরা আশা করছি, মৌসুম শেষের আগেই আরো পাঁচ-ছয় লাখ টন চিনি রপ্তানি করা সম্ভব হবে। করোনা মহামারীর কারণে ভারতের চিনি রপ্তানি গতি হারিয়েছিল। তবে মৌসুমের শেষ ভাগে এসে পণ্যটির রপ্তানি খাত ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া চিনির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
আরোও পড়ুন: ভারতে কমতে শুরু করেছে ছোলার দাম
পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা ভারতের
এটা ভারতের চিনি রপ্তানিতে গতি ফিরিয়ে এনেছে। সরকার, মিল মালিক, রপ্তানিকারক ও পরিবহন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার আন্তরিক ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফলাফল হিসেবে মৌসুমের শেষ ভাগে এসে ভারত থেকে চিনি রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে যোগ করেন সুবোধ কুমার সিংহ।
ভারতের চিনি রপ্তানি আসন্ন ২০২০-২১ অর্থ বছরেও উল্লেখযোগ্য থাকবে বলে তিনি আরোও যোগ করেন, ১ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া পরবর্তী মৌসুমে সব মিরিয়ে ৩ কোটি ২৫ লাখ টন চিনি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এবারের মৌসুমের তুলনায় আসন্ন মৌসুমে ভারতে পণ্যটির উৎপাদন বাড়তে পারে ৬০-৬৫ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদন হলে মৌসুমজুড়ে বেশি বেশি চিনি রপ্তানি হবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ভারত সরকার ও মিল মালিকরা চিনি রপ্তানি বাড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। রপ্তানি বাড়াতে এ শিল্পে ৬ হাজার ২৬৮ কোটি রুপি ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। তবে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের তুলনায় দাম কিছুটা কম থাকায় বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকরা চিনি আমদানিতে ভারতের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। একই সময়ে মুদ্রাবাজারে ভারতীয় রুপির তুলনামূলক দুর্বল অবস্থান চিনি রপ্তানি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। মূলত এসব কারণে এবারের মৌসুমে এখন পর্যন্ত ভারত থেকে ৫৭ লাখ টন চিনি রপ্তানির চুক্তি করা সম্ভব হয়েছে। এখন মৌসুমের বাকি সময়ে আরো চিনি রফতানির আশা করছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা।
করোনার মধ্যেই ৫৭ লাখ টন চিনি রপ্তানি ভারতের।এছাড়াও চলতি বছর ভারত থেকে সব মিলিয়ে ৫০ লাখ টন চিনি রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরও দেশটি থেকে একই পরিমাণ চিনি রফতানি হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























