
আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে খাদ্যশস্য রফতানিতে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ইউক্রেন। কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সমুদ্রপথে দেশটির রফতানি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ কঠিন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক।
তথ্য বলছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর ইউক্রেনের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ কারণে ব্যাহত হচ্ছে গম, ভুট্টা, সূর্যমুখী তেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য রফতানি। ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের দাম বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে আরোহণ করেছে। নাটকীয়ভাবে বেড়েছে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা।
পড়তে পারেন: গম আমদানিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ মিসর ভারতের দ্বারস্থ
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ইউক্রেনের বন্দর টার্মিনালগুলোয় বর্তমানে দুই কোটি টন খাদ্যশস্য আটকে আছে।
তুরস্কের এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানান, ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি পুনরায় চালু করতে বসফরাস প্রণালি দিয়ে একটি করিডর খুলে দেয়ার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছে ইস্তানবুল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুরস্কের এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশের সঙ্গেই আলাপ-আলোচনা করছে তুরস্ক। উদ্দেশ্য ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি পুনরায় চালু করা।
তিনি আরো বলেন, তুরস্ক থেকে একটি করিডর খুলে দিতে আলাপ-আলোচনা এখনো চলছে। এতে সাফল্য এলে তা আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য সুফল বয়ে আনবে। কারণ বর্তমান বাজারে ইউক্রেনীয় গমের ব্যাপক চাহিদা।
পড়তে পারেন: খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে ছয় লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করবে উজবেকিস্তান
তবে এ ব্যাপারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের কার্যালয় থেকে তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
তুরস্ক একটি ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশ। শুরু থেকেই দেশটি ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে আসছে। তবে সংঘাত চলাকালীন রাশিয়া-ইউক্রেন—দুই দেশের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক রক্ষা করছে দেশটি।
এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রফতানি চালু করতে সব রকম প্রতিবন্ধকতা উঠিয়ে নিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। বিশেষ করে ন্যাটো জোট ও স্থানীয় জনগণের খাদ্যচাহিদা মেটাতে যেসব দেশ কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চল থেকে শস্য আমদানিতে নির্ভরশীল তারা অনুরোধ জানিয়েছে।
পড়তে পারেন: প্রতিবেশী হওয়ায় ভারত থেকে গম আমদানিতে কোন বাধা নেই
চলতি সপ্তাহের শুরুতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রোডেনকো ইঙ্গিত দেন যে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার শর্তে খাদ্যশস্য রফতানির একটি করিডর দিতে রাজি আছে রাশিয়া।
তবে ন্যাটো জোটের সদস্যরা জানিয়েছে, যতক্ষণ না রাশিয়া পুরোপুরিভাবে ইউক্রেন থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে ইচ্ছুক নয়।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























