নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা বড় আকারের রসুনের কাছে ধরা খেয়েছে বাংলার কৃষকরা। বাজারে আমদানি করা রসুনের দাপটে ব্যাপক দরপতন হয়েছে মসলাজাতীয় পণ্যটির।

ফরিদপুরের চরাঞ্চল এলাকায় পুরোনো রসুন ৫ থেকে সাড়ে ৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মণ হিসেবে দাঁড়ায় ২০০-৩০০ টাকা। তবে, সিন্ডিকেটের কবলে একই রসুন খুচরা বাজারে ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকের লোকসান, অন্যদিকে লাভবান ব্যবসায়ীরা।

পড়তে পারেন: এবার বাজারে আসছে কাঁচা পেঁয়াজ রসুনের গুড়া

ফরিদপুরের সদরপুরের হাওলাদার লতিফুল হক জানান, বিদেশি রসুন দেখতে বড় এবং লোভনীয়। তাই দেশি রসুনের দামও কম। সদরপুর বাজারে রসুন এবার পানির দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে এখন দেশি রসুনের কদর কম। মানুষ বড় জিনিস খুঁজে।

আশ্চর্য ব্যাপার হলো, একই রসুন খুচরা বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি রসুন ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মণ হিসেবে ৬০০-৮০০ টাকা। দাম না থাকায় নতুন রসুন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। দাম এভাবে নিচের দিকে নামতে থাকলে রসুন চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ারও আশঙ্কা করছেন তারা।

পড়তে পারেন: ১৯২ টন পৃথিবীর সবচেয়ে দামী মসলা রফতানি করল ইরান

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার নগরকান্দা, মধুখালী, সদর উপজেলা, সদরপুর, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা উপজেলায় মসলাজাতীয় ফসল পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ বেশি হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল, অম্বিকাপুর, মাধবদিয়া, ঈশানগোপালপুর, নগরকান্দা, সালথা ও ভাঙ্গার বিস্তীর্ণ এলাকায় রসুনের আবাদ হয়। গতবারের মতো এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। কিন্তু দাম নিয়ে চিন্তিত তারা।

চরমাদবদিয়ার কৃষক হাচান ফকির বলেন, এ বছর আমি দুই বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করেছি। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০-৫৭ হাজার টাকা। এবার ৪০ মণ রসুন পেতে পারি। কিন্তু ২০০-৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা শ্রমিকের খরচই উঠবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

পড়তে পারেন: পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম কমতির দিকে

সদর উপজেলার আদর্শ কৃষক সেকেন্দার মিয়া ও শওকত সেকেন্দার বলেন, গত বছর এ জেলায় রসুনের ভালো ফলন হয়েছিল। এবারও রসুনের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু দাম নিয়ে শঙ্কার যেন শেষ নেই। পুরোনো রসুনই এখন প্রতি মণ ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরকান্দার কৃষক সেকেন মাতুব্বর বলেন, আমার নিজের জমিতে রসুন চাষ হচ্ছে। আবার কৃষকদের কাছ থেকে কিনেও বিক্রি করি। এবার রসুনের দাম একেবারেই কম। পুরোনো রসুন কিনছি ৩০০ টাকা মণ ধরে। বাজারে সেরা রসুনের দাম পড়ছে মাত্র ৩৩০-৩৫০ টাকা।

পড়তে পারেন: চোঙা ফাঁদে বছরে ১২ লাখ ইঁদুর নিধন

এ বিষয়ে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হযরত আলী বলেন, চলতি বছর ফরিদপুরে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে রসুনের দাম যেভাবে কমছে তাতে কৃষকরা কষ্টের মূল্যও ঘরে তুলতে পারবেন কি না সন্দেহ আছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ