রমজানেও চীন হতে ফল

নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রমজানেও চীন হতে ফল আমদানি হবে না; কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে চীন হতে সব ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে চীন ব্যতিত সব দেশ থেকে ফল আমদানি করা যাবে।

আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০) বাংলাদেশ ফল রপ্তানিকারকদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে কৃষিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। কৃষিমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভা সঞ্চালনা করেন কৃষি সচিব মো: নারিুজ্জামান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস দ্বারা চীন আক্রান্ত হওয়ার আগেই চীনের সরকারি একমাস ছুটি এবং ছুটির মধ্যবর্তী সময় ভাইরাস সনাক্ত এ সকল কারনে চীন হতে ফল আমদানি বন্ধ আছে।

সাংবাদিকের অপর এক প্রশ্নের ‍উত্তরে বাজারে রমজান মাসে ফলের কোন সমস্যা হবে না উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সামনে রমজান মাসে চীন ব্যতীত অন্য সকল দেশ হতে ফল আমদানি করা হবে। এই মুহুর্তে ক্ষেত্রে চীন থেকে ফল আমদানির জন্য আমদানিকারকদের নিরুৎসাহিত করা হবে।

দেশের ফল উৎপাদনের চিত্র পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এক সময়কার বাড়ীর আঙ্গিনায় উৎপাদিত ফসল এখন মাঠে উৎপন্ন হচ্ছে। তেমনি রাজশাহীর উন্নত জাতের আম এখন প্রায় সকল জেলাতে উৎপন্ন হচ্ছে। দেশে এখন অর্থকরি অপ্রচলিত বিদেশি ফসল/ফল উৎপন্ন হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদেশি ড্রাগন ফল উৎপাদন যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে আর কয়েক বছর পরে চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানীতে যেতে হবে। যে সকল ফল/ফসল আমাদের দেশে উৎপন্ন হয় সেগুলো আমদানি কমানো এবং দেশে উৎপন্ন ফল/ফসল রপ্তানির পথ বেড় করতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষের ফল খাওয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে এবং উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফল দেশের মোট চাহিদার মাত্র ৩৫ ভাগ পূরণ কওে, যা দুই বছর আগেও  ছিল ২৮ ভাগ । বাকিটা আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়।

এ উদ্যোক্তা জানান, এজন্য আমদানিকৃত ফলের চাহিদা বেশি। দেশে সারা বছর বিদেশি ফলের চাহিদা রয়েছে। অপ-আমদানি বন্ধের দাবি জানান তারা। যে সকল ফল আমাদের দেশে যথেষ্ট পরিমানে উৎপন্ন হয় সেগুলো আমদানি বন্ধ হলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে।

ফল রপ্তানীর জন্য প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠান জরুরী উল্লেখ করে জানান, ফলে কোনো ফরমালিন মেশানো হয় না। এসমেয় তিনিফল রপ্তানীর জন্য সরকারের সহযোগিতা চান।

কৃষি সচিব মো: নাসিরুজ্জামান ফল রপ্তানির জন্য সকল ধরনের সহযোগিতার কথা জানান উপস্থিত সবাইকে। তিনি বলেন, আম রপ্তানী জন্য ভিএইচটি/লেজার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন নিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, বিশ্বব্যাপি সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় কলা। আমাদের রপ্তানি উপযোগি জাত উদ্ভাবন করে এর উৎপাদন বৃদ্ধি করে রপ্তানি করতে হবে। চিস্যূ কালচার  এর মাধ্যমে উন্নত কলার জাত উদ্ভবনের ক্ষেত্রে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এ ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, দেশে নতুন নতুন জাতের আম, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফলসহ বিদেশি জাতের ফলের আবাদ হচ্ছে। এক সময় সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বিদেশি ফলের ওপর নির্ভরতা ছিল। এখন এই সময়ে দেশীয় ফলের সরবরাহ বাড়ছে। তাজা ও রাসায়নিকমুক্ত ফলে আগ্রহ বাড়ছে মানুষের। তাই এই সময়টাতে মানুষকে বাধ্য হয়ে বিদেশি ফল কিনতে হয়।

সবশেষে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সময় পাল্টেছে। বিদেশি ফল বেচাকেনার ভরা মৌসুমেও এখন পাওয়া যাচ্ছে দেশি ফল। আপনারা আমদানিকারক আবার আপনারাই রপ্তানীকারক হতে পারেন। কৃষিকে লাভজনক করতে আপনাদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

রমজানেও চীন হতে ফল আমদানি হবে না; কৃষিমন্ত্রী শিরোনামের সংবাদটির তথ্য কৃষিমন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: রপ্তানীযোগ্য কৃষি পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধির তাগিদ দিলেন কৃষিমন্ত্রী