নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: কৃষকের উৎপাদিত পণ্য কৃষক পর্যায়ে যতটুকু দাম থাকে তার কয়েকগুণ দাম বৃদ্ধি পায় ভোক্তা পর্যায়ে। কৃষক স্থানীয় বাজারে ১০ টাকা কেজি সবজি বিক্রি করলেও তা রাজধানী ঢাকায় ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেই এমন হয় বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, ‘সবজির দাম নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় তথ্য পেয়েছে, মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ মধ্যস্বত্বভোগী। তাদের কারণে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে যে সবজির কেজি ১০-২০ টাকা, সেটি আমরা ঢাকায় ৬০-৭০ টাকায় কিনে খাই।’

রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কৃষি সচিব।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমরা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কাজ করছি। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে। এ ছাড়া কোন পর্যায়ে কত দাম হওয়া উচিত সে বিষয়েও আমরা নজর রাখছি। একেক সময় একেক পরিস্থিতির কারণে সবজির দাম বাড়ে। এ বছর ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তবে গবেষণা শেষে আমরা সুনির্দিষ্ট কারণগুলো জানতে পারবো।’

মূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে কৃষি সচিব বলেন, ‘জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিপণন অধিদফতরকে সংযুক্ত করে একটা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। যেন আমরা দেখতে পারি, মধ্যস্বত্বভোগীরা কোথায় কোথায় আছেন। কী কী ব্যবস্থা নিলে সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাবে।’

তিনি জানান, এ বছর অসময়ে দুবার বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ৫ ডিসেম্বরের বৃষ্টিতে বড় ক্ষতি হয়েছে। এতে উৎপাদনে ঘাটতি না হলেও কৃষকদের দ্বিতীয়বার আবার উৎপাদন করতে হয়েছে। ফলে কৃষকের ব্যয় বাড়ায় এটিও মূল্যবৃদ্ধির আরেকটি কারণ বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে রাজশাহীর বাজারগুলোতে অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় স্থিতিশীল রয়েছে কাঁচা মরিচের দাম। আজ রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে ছিল একই দাম ছিল। তবে আলু-পেঁয়াজসহ বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। রাজশাহীর সাহেব বাজার মাস্টারপাড়া, উপশহর নিউমার্কেট, লক্ষীপুর নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কিছু কিছু শীতকালীন সবজি বাজারে আমদানি কম। এছাড়া অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়ার কারণে সবজির দামও বাড়তি। প্রায় সপ্তাহখানের আগে বৃষ্টির কারণে কিছু সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পটল, বেগুন, কাঁকরোল, ঢেঁড়স, করলাসহ প্রায় সব সবজিই বাজারে আছে। বৃষ্টির কারণে মরিচের ক্ষেতে ক্ষতি না হয়ে বরং ফলন বেড়েছে। আমদানিও বেশি ফলে দাম কমেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাঁচামরিচ সেঞ্চুরি পার করবে।

পড়তে পারেন: বৃষ্টিতে খুশি আম চাষিরা, শঙ্কায় সবজি

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, করলা ৫০ টাকা, সিম ৪০ টাকা, দেশি আলু ২০ টাকা, ডায়মন্ড-কার্ডিনাল আলু ১৫ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিচ ৩০, পেঁয়াজের ফুল (ফুলকা) প্রতি আঁটি ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা পেঁপে প্রতি কেজি ২০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ক্ষীরা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৪০ টাকা আর কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দু-সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের দরপতন হলেও বর্তমানে ক্রমেই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। পুরাতন দেশি পেঁয়াজ বাজারে তেমন দেখা মেলেনি। মধ্যমানের দেশি পেঁয়াজে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। আর আমদানি করা ভালোমানের পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।

পড়তে পারেন: স্থিতিশীল সবজির বাজার, কমেছে পেঁয়াজের দাম

পেঁয়াজের বাড়তি দামের বিষয়ে বাজারের খুচরা বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। গত শুক্রবারে একটু কম দামে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। আজ প্রতিকেজি ৫-৭ টাকা বেড়েছে। মুড়ি কাটা (চারা পেঁয়াজ) বাজারে আসলে দাম কমতে শুরু করবে হয়ত। এছাড়া সামনে পেঁয়াজের দাম কতটা কমবে নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশে কখন কোন জিনিসের দাম বাড়বে কেউ জানেনা।

নিউমার্কেট বাজারে আসা ক্রেতা হাসনাত হাকিম বলেন, কৃষক পর্যায়ে আলুর কেজি ৫-৭ টাকা কেজি। কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা। বেগুনের কেজি ৫০ টাকা তাই হাফ কেজি বেগুন আর ১ কেজি আলু কিনলাম। এক লিটার তেলের বোতল কেনার পর আর টাকা নাই। মানুষ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে হাঁসফাঁস করছে।

পড়তে পারেন: পৌষ মাসে চাষ করতে পারেন যেসব শাক-সবজি

একই বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা হামিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর আসলেই সবজির দাম বেশি। তবে সবজির বাজার বেশি থাকার আরেকটি কারণ হলো উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সার-ঔষুধের দাম বেড়েছে তাই সবজির দামও বেশি। যতখানি কৃষক পর্যায়ে দাম বাড়ে তার তিনগুণ বাড়ে ভোক্তার কাছে এসে। বাজার মনিটরিং না থাকায় সবকিছুর দাম বেপরোয়া।

এদিকে ২০০ থেকে ২২০ কেজি দরে বিক্রি হওয়া লাল কক মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সাদা ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪৫ টাকা থেকে ৫ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। আগের সপ্তাহের মতো পাতিহাঁস ২৮০-৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ