
আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ইউক্রেনে সম্প্রতি সামরিক আগ্রাসন বাড়িয়েছে রাশিয়া। এর ফলে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে খাদ্যশস্য রফতানি আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গমের বাজারে নতুন খবর হিসেবে যুদ্ধের কারণে এশিয়ার ক্রেতা দেশগুলো অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকছে বলে প্রকাশ করেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস।
এরই মধ্যে দেশটি থেকে কয়েক কার্গো গম আমদানির চুক্তি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় ফিডমিল গ্রুপ ৬৫ হাজার টন গম বুকিং দিয়েছে। আগামী মার্চে এসব গম সরবরাহ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫৪ ডলার ৪৯ সেন্ট।
গত ২৪ ঘণ্টায় ফিলিপাইন ও দক্ষিণ কোরিয়া সব মিলিয়ে চার কার্গো গম ক্রয় করেছে। ফিলিপাইনের আমদানি গ্রুপ এরই মধ্যে তিনটি কার্গো বুক করেছে। প্রতি কার্গোয় ৫০ হাজার টন গম আমদানি করা হবে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব গম সরবরাহ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৪০ ডলার।
এগ্রিকেয়ার২৪.কমের অন্যান্য নিউজ পড়তে পারেন:
পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে দাঁড়িয়েছে ভারতের গম মজুদ
গম উৎপাদনে রেকর্ড গড়তে পারে রাশিয়া
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণসাগরীয় গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ আগামী ১৯ নভেম্বর শেষ হতে চলেছে। চুক্তিটি সম্প্রসারণ দিয়ে সন্দিহান বাজারসংশ্লিষ্টরা। ফলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। ইউক্রেনের গম রফতানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় এশিয়ার ক্রেতারা অস্ট্রেলিয়ার বাজার থেকে গম আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন।
এদিকে ভুট্টার আন্তর্জাতিক বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। এর ফলে ক্রেতারা বিকল্প উৎস থেকে গমকেই বেছে নিচ্ছেন। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব ভুট্টা এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা হবে সেগুলো প্রতি টন ৩৪৮ ডলার ৫০ সেন্টে চুক্তি হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে যেসব ভুট্টা সরবরাহ করা হবে সেগুলো স্পট মার্কেটের তুলনায় অন্তত ৫-১০ ডলার বেশি মূল্যে চুক্তি করা হচ্ছে। কারণ এ শস্যের বাজারও সংকটে রয়েছে।
শীর্ষ উৎপাদক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে। অন্যদিকে মিসিসিপিতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা রফতানিও কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে রেলপথে রফতানিও ব্যাহত হচ্ছে।
এগ্রিকেয়ার২৪.কমের অন্যান্য নিউজ পড়তে পারেন:
রাশিয়ায় ৮৬ লাখ হেক্টর জমিতে গম চাষ
গম আমদানির পূর্বাভাস, অর্ধেকে নামতে পারে দাম
সংকট কাটাতে রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টন গম আমদানি
অন্য শীর্ষ দেশ আর্জেন্টিনায় ভুট্টা আবাদ কমে ১০ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। রোজারিও গ্রেইনস এক্সচেঞ্জের তথ্য বলছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে আবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ গম আমদানিতে অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকলেও চীন ভুট্টা আমদানি বাড়াচ্ছে। আর দেশটির সঙ্গে বৈরিতা থাকায় চীন ব্রাজিল থেকে ভুট্টা আমদানি বাড়াচ্ছে।
তথ্য বলছে, অস্ট্রেলিয়ায় এরই মধ্যে গম উত্তোলন শুরু হয়েছে। দেশটি এবার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছে। তবে গড় মাত্রার চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে রাশিয়া খাদ্যশস্যে রফতানি কোটা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক বাজারে যেমন সরবরাহ বাড়বে ঠিক তেমনি খাদ্যশস্যের দামও কমে আসবে বলে ধারণা বাজার বিশ্লেষকদের। এর ফলে ইউক্রেনের রফতানি নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় আশার আলো জাগাচ্ছে দেশটি।
রাশিয়া সাধারণত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ সময় পর্যন্ত খাদ্যশস্য রফতানিতে কোটা বেঁধে দেয়। উদ্দেশ্য স্থানীয় চাহিদা নিশ্চিত করা। তবে চলতি বছর দেশটি রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন করেছে। প্রাক্কলিত উৎপাদন ধরা হয়েছে ১৫ কোটি টন। এর মধ্যে ৯ কোটি টনই গম। অর্থাৎ খাদ্যশস্যই নয়, গম উৎপাদনও রেকর্ড সর্বোচ্চে উন্নীত হতে যাচ্ছে। এর ফলে কোটা ছাড়াই স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশটি বিপুল পরিমাণ শস্য রফতানি করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ চলছে। ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর একের পর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির খাদ্যশস্য রফতানি ব্যাহত হচ্ছে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























