নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সারাদেশে শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকেছে চাষিরা। বাজারে দেখা মিলছে মুলা, শিম, বরবটি, ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজি। ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সবজি। লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। সিলেটের সীমান্ত উপজেলা জৈন্তাপুরের এক ইউনিয়নেই সবজি চাষ করে ভাগ্য খুলেছে প্রায় ৪০০ শ্রমিকের।

জানা গেছে, পাথরে ঘেরা সিলেট অঞ্চলের জৈন্তাপুরের মানুষ আগে পাথর কোয়ারিতে কাজ করতেন। সরকার পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর এখন তারা পাথর উত্তোলন ছেড়ে সবজি চাষে নেমেছেন তারা। ভাগ্য খুলেছে এসব শ্রমিকের।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ১১টি গ্রামে এবার সবজি চাষ করেছেন চার শতাধিক কৃষক। বাম্পার ফলন হওয়ায় আগাম শাকসবজি বিক্রি করে তাদের কেউ কেউ এখন লাখপতি। আবার কেউ কেউ সবজি বিক্রির টাকা দিয়ে করেছেন পাকাঘর। নিজপাট ইউনিয়নের রুপচেং, নয়াগ্রাম, মাঝেরবিল, কালিঞ্জি, দিগারাইল, হর্নি, বাইরাখেল, লক্ষ্মীপ্রসাদ হাওর, লক্ষ্মীপ্রসাদ, কামরাঙ্গী এবং পাখিবিল এই ১১ গ্রামের মাঠজুড়ে সবুজ শাকসবজিতে ভরপুর হয়ে আছে।

কৃষকরা জানান, আগাম জাতের শাকসবজি চাষ করে তারা ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। আগাম সবজির চাহিদা বেশি থাকায় জৈন্তাপুরের সবজি সিলেট ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। দামও পাচ্ছেন ভালো। তাই এই এলাকার কৃষকরা শাকসবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

নিজপাট ইউনিয়নের রুপচেং গ্রামের সবজি চাষি হেলাল আহমদ জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে বরবটি চাষ করেছেন। আগাম চাষ করায় অন্য বছরের তুলনায় এবার বাজারও ভালো পেয়েছেন। এছাড়া চলতি মাসেই তিনি একই জমির শিমও বাজারে তুলবেন। আশা করছেন, শাকসবজি চাষ করে এবছর তিনি দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

এ সময়ে যেসব সবজি চাষে বেশি লাভবান হওয়া যাবে

রাজশাহীতে নতুন পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে শীতের সবজি

শাক-সবজি চাষে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে কৃষক

পত্নীতলায় সবজি চাষে ভাগ্য বদলেছে মজিবরের

হর্নি গ্রামের কৃষক মো. জয়নুল আবেদীন জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে বরবটিসহ আগাম জাতের সবজি চাষ করেছেন। বরবটিতে এবছর চাষের খরচ ও পারিবারিক ব্যয় বাদেও তিনি দেড় লাখ টাকা আয় করেছেন। মাঠে যে সবজি আছে সেগুলো বিক্রি করে আরও ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পাবেন। সবজি চাষের এই টাকা দিয়ে বছরের বাকি দিন তিনি পরিবারের খরচ চালাতে পারবেন।

জয়নুল আবেদীন আরও জানান, একই জমিতে তিনি শিম রোপণ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে শিম থেকে আরও দুই লক্ষাধিক টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে তার। তবে শিম চাষে আলাদা কোনো খরচ লাগবে না। এক খরচে দুটি ফলন পাচ্ছেন তিনি।

দীর্ঘদিন থেকে কৃষিকাজ করলেও সরকারি কোনো সহায়তা পাননি জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে তিনি প্রতি বছর পাঁচ থেকে সাত বিঘা জমিতে শাকসবজি চাষ করতে পারতেন।

কালিঞ্জি গ্রামের কৃষক শফিক আলী জানান, তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে ঝিঙা, করলা, লাউ এবং বরবটি চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। বাজারে দামও ভালো। ফসলের মাঠ থেকে সবজি বিক্রি করতে পারছেন। বাইরের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীরা ট্রাক নিয়ে এসে সবজি কেনায় তাকে বাড়তি কোনো ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

বাড়ির ছাদে সবজি চাষের পাশে মুরগি পালন পদ্ধতি

মাশরুম চাষে জিনিয়ার বাজিমাত

বৃষ্টিতে খুশি আম চাষিরা, শঙ্কায় সবজি

জানুন উচ্চ ফলনশীল গমের নতুন জাত সম্পর্কে, শীষে ৪০ দানা

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী রেজওয়ান করিম সাব্বির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় নিজপাট ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের বাসিন্দারা শাকসবজি চাষে মনোযোগী হয়েছেন। যার কারণে শাকসবজি চাষ করে শত শত মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছেন। এই গ্রামগুলোতে আধাকাঁচা ঘর নেই বললেই চলে। সবাই সবজি চাষ করে পাকাবাড়ি করেছেন।

জৈন্তাপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. জাবেল খলিল চৌধুরী এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, সিলেটের এ অঞ্চলে পাথর উত্তোলন আগে নিয়মিত ছিল। সরকরিভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ হলে সেসব শ্রমিক এখন মাছ চাষ, রিকসা চালানো, সবজি চাষসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন। যারা কৃষির সাথে যুক্ত হয়েছেন তাদের উপজেলা কৃষি অফিস সহায়তা, কৃষক প্রশিক্ষণ, ভর্তুকির সার-বীজ-কীটনাশক, বিভিন্ন ফলজ বাগান তৈরি করে দিচ্ছে। এরইমধ্যে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছেন। ক্রমান্বয়ে উপজেলার সব কৃষকরা সরকারি সুবিধা ভোগ করবে। আমরা চাই কৃষির উন্নতি, কৃষকের সাবলম্বী হওয়া।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, আমি এই উপজেলায় সদ্য দায়িত্ব পেয়েছি। উপজেলায় ব্যাপকহারে কৃষকরা নানা ধরনের শাকসবজি ও ফল চাষ করে কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলে শুনেছি। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষদের প্রশিক্ষণ, সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অচিরেই আরও নতুন করে কৃষকরা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধার আওতায় আসবেন।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ