নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে এক সপ্তাহ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। অন্যদিকে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে সোনালী মুরগি ও পাতিহাঁসের দাম।

শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। আর সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা। পাতিহাঁসের কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে হাঁসের কেজি ছিল ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩১৫ থেকে ৩২০ টাকা।

মুরগির দাম বাড়ার বিষয়ে রাজশাহীর সাহেব বাজার মাস্টারপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম মিঠু এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, কিছুদিন আগে রাজশাহীতে দোকানপাট বন্ধের ঘোষণায় বেচাবিক্রি কমে গিয়েছিল। বর্তমানে বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার কারণে বিয়েশাদীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে। হোটেলে আগে রাত ৮টার পর সববিক্রি বন্ধ হয়ে যেতো। কিন্তু এখন সেই সমস্যা নেই। বাজারে চাহিদা ও আমদানি দুটোই আছে কিন্তু দাম তেমন বাড়েনি।

পড়তে পারেন: দেশে ঢুকছে ভারতীয় পেঁয়াজ, কমলো দেশীর বাজার

রাজশাহী নিউমার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, সোনালি মুরগি বাসাবাড়ির পাশাপাশি হোটেলের জন্যও বিক্রি হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও সোনালি মুরগি ব্যবহার করা হয়। আর ব্রয়লার মুরগি সাধারণত বাসাবাড়িতে খাওয়ার জন্য কিনেন ক্রেতারা। এ কারণে অনুষ্ঠান বেশি হলে ব্রয়লার মুরগির তুলনায় সোনালি মুরগি বেশি বিক্রি হয়।

পড়তে পারেন: বাজার সয়লাব দেশীতে, কমলো ভারতীয় পেঁয়াজের দাম

এদিকে মাসের শুরুতে হটাৎ বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজের দাম কমে এখন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে সাহেববাজার নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, পেঁয়াজের দাম হটাৎ বেড়েছিল কিন্তু আবার দাম কমে গেছে। এখন ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। আর দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কিছুদিন পর মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে তখন আর দাম বাড়বে না। কিন্তু এ দাম কিছুদিন থাকবে। মজুদ করতে না পারায় কোন সিন্ডিকেটও পেঁয়াজে কাজ করতে পারবে না।

পড়তে পারেন: স্থিতিশীল সবজির বাজার, কমেছে পেঁয়াজের দাম

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩২০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। শিং ও টাকি মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা। তেলাপিয়া ও পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা।

 এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। ছোট ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে।

পড়তে পারেন: দুই মাছের দাম ১৮ হাজার ৯০০ টাকা!

শুক্রবার রাজশাহীর সাহেব বাজার মাস্টারপাড়া, উপশহর নিউমার্কেট, লক্ষীপুর নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কিছু কিছু শীতকালীন সবজি বাজারে আমদানি কম। এছাড়া অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়ার কারণে সবজির দামও বাড়তি। প্রায় সপ্তাহখানের আগে বৃষ্টির কারণে কিছু সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পটল, বেগুন, কাঁকরোল, ঢেঁড়স, করলাসহ প্রায় সব সবজিই বাজারে আছে। বৃষ্টির কারণে মরিচের ক্ষেতে ক্ষতি না হয়ে বরং ফলন বেড়েছে। আমদানিও বেশি ফলে দাম কমেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাঁচামরিচ সেঞ্চুরি পার করবে।

পড়তে পারেন: এক পোয়া মাছের দাম ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা!

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, করলা ৫০ টাকা, সিম ৪০ টাকা, দেশি আলু ২০ টাকা, ডায়মন্ড-কার্ডিনাল আলু ১৫ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিচ ৩০, পেঁয়াজের ফুল (ফুলকা) প্রতি আঁটি ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা পেঁপে প্রতি কেজি ২০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ক্ষীরা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৪০ টাকা আর কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দু-সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের দরপতন হলেও বর্তমানে ক্রমেই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। পুরাতন দেশি পেঁয়াজ বাজারে তেমন দেখা মেলেনি। মধ্যমানের দেশি পেঁয়াজে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। আর আমদানি করা ভালোমানের পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।

পড়তে পারেন: দামে উঠানামার গ্যাঁড়াকলে পোল্ট্রি খামারিরা

পেঁয়াজের বাড়তি দামের বিষয়ে বাজারের খুচরা বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। গত শুক্রবারে একটু কম দামে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। আজ প্রতিকেজি ৫-৭ টাকা বেড়েছে। মুড়ি কাটা (চারা পেঁয়াজ) বাজারে আসলে দাম কমতে শুরু করবে হয়ত। এছাড়া সামনে পেঁয়াজের দাম কতটা কমবে নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশে কখন কোন জিনিসের দাম বাড়বে কেউ জানেনা।

নিউমার্কেট বাজারে আসা ক্রেতা হাসনাত হাকিম বলেন, কৃষক পর্যায়ে আলুর কেজি ৫-৭ টাকা কেজি। কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা। বেগুনের কেজি ৫০ টাকা তাই হাফ কেজি বেগুন আর ১ কেজি আলু কিনলাম। এক লিটার তেলের বোতল কেনার পর আর টাকা নাই। মানুষ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে হাঁসফাঁস করছে।

একই বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা হামিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর আসলেই সবজির দাম বেশি। তবে সবজির বাজার বেশি থাকার আরেকটি কারণ হলো উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সার-ঔষুধের দাম বেড়েছে তাই সবজির দামও বেশি। যতখানি কৃষক পর্যায়ে দাম বাড়ে তার তিনগুণ বাড়ে ভোক্তার কাছে এসে। বাজার মনিটরিং না থাকায় সবকিছুর দাম বেপরোয়া।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ